ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ খাতের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে। এসব কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান এসব কথা বলেন। ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সানেম।
সানেমের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিলে ও খেলাপির সংজ্ঞা পরিবর্তন করলে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা আরো বাড়বে। এ ধরনের পদক্ষেপে বিদ্যমান সমস্যা থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত কমিশন গঠনসহ শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি এ খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। সেলিম রায়হান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় বলা হয়, ব্যাংকিং খাত ছাড়াও কর নীতি, বাণিজ্য নীতি, মুদ্রা বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, রফতানি খাত, ভালোভাবে বড় প্রকল্প পরিচালনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার প্রয়োজন। অর্থনীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধিতে ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর ভর করে এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অপরদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক রফতানি ও রেমিটেন্স। কিন্তু এই দুটি খাতের প্রবৃদ্ধি কমছে। কোনো কারণে রফতানি ও রেমিটেন্সে আঘাত আসলে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলেও আশঙ্কার কথা জানানো হয়। সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। সরকারি বিনিয়োগে সেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, যা বেসরকারি বিনিয়োগে হয়ে থাকে।
কর নীতিমালায় ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে সানেমের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর কোনো দেশে আমাদের মতো জিডিপিতে করের এত কম অবদান নেই। মেগা প্রকল্প সম্পর্কে বলা হয়, ১০টির মধ্যে ৮টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে ৭০ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ দিয়ে। এসব ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। আবার প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না। এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এ সময় বলা হয়, একদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এ জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ থাকতে হবে। আসন্ন বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সানেমের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ফজলুল হক খন্দকার এবং প্রফেসর সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ।
