মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও রাজশাহীর হোটেলগুলোতে ভোক্তাদের জন্য মানসম্মত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। বারবার অভিযানে নামমাত্র জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অসাধু হোটেল ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার কয়েকটি খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র্যাব। এ অভিযানে নগরীর সিএন্ডবি এলাকার নানকিং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা, লক্ষ্মীপুর মোড়ের হোটেল ক্যাফে রাজকে ১ লাখ টাকা ও তৃপ্তি হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আরও পড়ুন: বাঘায় 'বন্দুকযুদ্ধে' ১০ মামলার আসামি নিহত, ৯ পুলিশ আহত
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর নামিদামি এসব খাবার হোটেলের রান্নাঘরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। সেখানে তেলাপোকা ছুটে বেড়াচ্ছে। ওই নোংরা রান্না ঘরে প্রস্তুত খাবার না ঢেকেই খোলা রাখা হয়েছে। এছাড়া ফ্রিজের মাছ-মাংস বহুদিনের পুরোনো ও পচা। ফ্রিজগুলো বহুদিন থেকে পরিস্কারও করা হয় না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা, রান্নার কাঁচামাল পচা ও বাসিসহ হোটেলগুলোর পরিবেশ নোংরা থাকায় ভোক্তাঅধিকার আইনে তাদেরকে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সাথে হোটেলগুলোর মান উন্নয়নে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়।
এদিকে সচেতন নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর রমজানে খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রকাশ্য এ অনিয়মের দায়ে প্রতিবারই শুধুমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে মালিকরা গুরুতর অনিয়ম করেও অর্থের জোরে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।
র্যাব-৫ রাজশাহীর কম্পানি কমান্ডার মাইনুল ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বলেন, রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি হোটেলের রান্নঘর ও ফ্রিজসহ খাবারের কাঁচামাল এবং খাবার তৈরির পরিবেশ খুবই নিম্নমানের। আমরা আগামীতে নগরবাসীর এসব অভিযোগের বিষয়ে খেয়াল রাখবো। ভোক্তাদের স্বার্থে অভিযান আরো বৃদ্ধি করার মাধ্যমে হোটেল মালিকদের বাধ্যকরা হবে তাদের হোটেলের মান ভালো করতে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নিয়োজিত র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিজামউদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে তিনটি হোটেলকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় তাদের সৃষ্ট অনিয়মগুলো দেখিয়ে জরিমানার পাশাপাশি তাদেরকে সতর্কও করা হয়েছে। যদি আগামীতেও তাদের হোটেলগুলোতে এমন পরিবেশ অব্যাহত থাকে তবে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পবিত্র রামজান মাসে ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য হোটেল ও বিপণিবিতানে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
