ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:১০
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুফল পেতে শুরু করেছেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের কৃষকরা। এক সময় ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য কাস্তেই ছিল প্রধান উপায়। এখন বদলে গেছে সে দৃশ্যপট। মাঠে মাঠে এখন পৌঁছে গেছে ধান কাটার যন্ত্র। কৃষকদের কাছেও ধান কাটিং মেশিন (রিপার) জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটলে সময় এবং খরচ দু-ই কমছে কৃষকের। মুহূর্তেই প্রচুর পরিমাণ ধান কাটা যাচ্ছে। দুর্যোগের হাত থেকে বোরো ধানকে রক্ষা করতে রিপার মেশিন দিয়ে মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার কাজ। কৃষকরা জানান, রিপার মেশিন দিয়ে একসঙ্গে ছয় সারির ধান কাটা যায়। এক একর জমির ধান কাটতে সময় লাগছে মাত্র এক ঘণ্টা। যন্ত্র চালাতে একজন শ্রমিক ও এক লিটার পেট্রোলই যথেষ্ট। কৃষকরা আরো জানান, সাধারণভাবে এক একর জমির ধান কাটতে একজন কৃষকের খরচ ৩৩৫ টাকা। আর ঘণ্টায় ১ একর জমির ধান কাটতে শ্রমিক লাগে ২০ জন। প্রতিজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক হিসেবে ২৫০ টাকার পরিমাণ ধান দিতে হয়। এক্ষেত্রে রিপার যন্ত্র দিয়ে ধান কাটায় শ্রমিকের খরচ কম হওয়ায় কৃষকদের একর প্রতি ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। সদর উপজেলার কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য শ্রমিক না পেয়ে ভাড়া করা রিপার যন্ত্র দিয়ে তিনি সাত বিঘা জমির বোরো ধান কেটেছেন। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, রিপার যন্ত্রের সুবিধা হচ্ছে ধানের গাছের গোড়া থেকে কাটা যাওয়ার কারণে খড়ের কোনো ক্ষতি হয় না। কম সময়ে বেশি ফসল কাটার জন্য দুর্যোগের সময় ফসল রক্ষা পায়। রিপার মেশিন কৃষি শ্রমিক সংকট দূর করে।