কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাগাতুয়া নামক একটি গ্রামে স্বাধীনতার ৪২ বছরেও বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি। চার সহস্রাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ওই গ্রামে বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য বিগত সময়ে গ্রামবাসী একাধিক আবেদন করলেও পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি কর্তৃপক্ষ এতে কোন সাড়া দেয়নি। এলাকার লোকজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, মুরাদনগর উপজেলার ৭নং পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের কাগাতুয়া গ্রাম নিয়ে ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড গঠিত। ওই গ্রামে পাঁচটি মসজিদ, চারটি মক্তব, একটি হাফিজিয়া ও একটি দাখিল মাদ্রাসা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুত্ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে এলাকার জমিতে ছোট-বড় ১২টি ডিজেল চালিত গভীর নলকূপ দিয়ে সেচকার্য পরিচালনা করা হয়। বিদ্যুত্বঞ্চিত চার সহস্রাধিক জনসংখ্যার ওই গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা হারিকেন-কুপি আর মোমবাতি। ওই গ্রামের ওপর দিয়ে রামচন্দ্রপুর-বাঙ্গরা-শ্রীকাইল ও কাগাতুয়া-কুড়াখাল পাকা সড়কপথে দিন-রাত যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া এ গ্রামের আশপাশের সকল গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, এ গ্রামের বাসিন্দা হাবিলদার আবদুর রহিম মুন্সী, দলিলুর রহমান মুন্সী ও হাবিবুর রহমান মুন্সী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং এ গ্রামের আরো ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার রয়েছে। অথচ সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভাবনাময় এ গ্রামের বাসিন্দারা স্বাধীনতার ৪২ বছরেও বিদ্যুতের সংযোগ পায়নি। এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম খান জানান, ‘আবেদন পেয়েছি। আগামী জুলাই মাসে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
