আ ই পি এ ল স্প ট ফি ক্সি ং

জরুরি বৈঠক ডাকলেন শ্রীনিবাসন

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:১৩
যতো দিন যাচ্ছে ততো বেশি সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) স্পট ফিক্সিংয়ের জের ধরে গত শুক্রবার রাতে পদত্যাগ করেন বোর্ড সচিব সঞ্জয় জাগদালে ও কোষাধ্যক্ষ অজয় শিরকে। আর চাপের মুখে থাকা সভাপতি এন শ্রীনিবাসন সংকট নিরসনে আজ দুপুরে চেন্নাইয়ে বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভার ডাক দিয়েছেন। কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করছে, এই বৈঠকেই বোর্ড সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন শ্রীনিবাসন। আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনায় রাজস্থান রয়্যালসের তিন ক্রিকেটার (শ্রীশান্থ, আঙ্কিত চাভান, অজিত চান্ডিলা) গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে একরকম চাপের মুখেই পড়েছিল বিসিসিআই। আর এরপর গত ২৪ মে সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের মেয়ের জামাই ও চেন্নাই সুপার কিংস দলের “রাঘব বোয়াল” গুরুনাথ মুয়াপ্পানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় এখন ভারত জুড়েই এন শ্রীনিবাসনের পদত্যাগের জোড় দাবি উঠেছে। আর শীর্ষস্থানীয় দুই বোর্ড কর্মকর্তার পদত্যাগের ফলে পদত্যাগের জন্য নতুন করে ভাবা ছাড়া আর কোন রাস্তা খোলা নেই শ্রীনিবাসনের সামনে। বিসিসিআইয়ের গেম ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার রত্নকর শেঠি জানিয়েছেন আজ সকাল ১১টা নাগাদ বৈঠক শুরু হবে। অন্যদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও ক্রিকইনফো জানিয়েছে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে দুপুর আড়াইটায়। তবে, বৈঠকে যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে সে ব্যাপারে আভাস দিলেন আইপিএল থেকে পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান রাজিব শুকলা, ‘আগামীকালের (আজকের) বৈঠকের ব্যাপারে আমি শুনেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি আশা করছি, এখান থেকে বড় কোন ঘোষণা আসতে যাচ্ছে।’ একইরকম কথা জানালেন বিজেপি নেতা ও দিল্লী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে থাকা অরুন জেটলি। তার মতে, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যরা চাইলেই জোর করে সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন না। তবে, কার্যনির্বাহী কমিটি চাইলে একটা সাধারণ পরিষদের একটি বিশেষ সভা ডাকতে পারেন আর এই সভায় তারা অভিসংশনের (ইমপিচমেন্ট) ক্ষমতা রাখেন। এক্ষেত্রে সভাপতিকে হটানোর জন্য ৩১ জন বোর্ড সদস্যের মধ্যে ২৪ জনকেই তার বিপক্ষে ভোট দিতে হবে। তবে এই “হার্ড লাইন” নিলেও একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে বিসিসিআইয়ের সামনে। সেটা হল শ্রীনিবাসনকে সরাতে হলে তার স্থানে নতুন একজন সভাপতি নিয়োগ দিতে হবে। তাহলে কে হতে যাচ্ছেন নতুন বোর্ড সভাপতি। ক্রিকইনফো তাদের সোর্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এক্ষেত্রে সাবেক সভাপতি শশাঙ্ক মনোহর অথবা বর্তমান সহ-সভাপতি অরুন জেটলিকে সভাপতির পদে দেখা যেতে পারে। সে যাই হোক, আপাতত “আমরা না হয় আপনি থাকবেন” - এখন এই নীতিতে মাঠে নেমেছে বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তারা। ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার জানিয়েছে, পদত্যাগ করতে পারেন বোর্ডের পাঁচজন সহ-সভাপতিও। যদিও এমন কিছু যে ঘটতে যাচ্ছে না সে ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বোর্ডের অন্যতম সহ-সভাপতি চিত্রক মিত্র। জানালেন, এ ব্যাপারে তার সাথে এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি।