দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সংসদীয় পদ্ধতি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার ফিরিয়ে আনতে হবে। আর প্রেসিডেন্ট পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাতীয় পার্টি একাই বিজয়ী হবে বলে দুই নেত্রীর উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি।
গতকাল শনিবার জাপার বনানী কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ড. ক্যাপ্টেন (অব.) রেজাউল করিম চৌধুরীকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখে এরশাদ। তিনি বলেন, দেশে প্রেসিডেন্ট শাসিত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর ধারাবাহিকভাবে জিয়াউর রহমান এবং আমি প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থায় দেশ পরিচালনা করেছি। প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসনামলেই দেশে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। আমার আমলে ৩৭৪ দিন হরতাল হয়েছে; কিন্তু উন্নয়ন ব্যাহত হয়নি। আগামীতে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যেতে পারলে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এককেন্দ্রীক শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থায় ফিরে আনা হবে।
বৃহত্তর নোয়াখালী জাতীয় পার্টির নির্বাচন সমন্বয় কমিটি আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক রিন্টু আনোয়ার। বক্তৃতা করেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং সংবর্ধিত নেতা ড. ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী প্রমুখ।
এরশাদ বলেন, কিছ?ুদিন আগেও টেলিভিশনের টক-শো, রাস্তাঘাট ও চায়ের দোকানে শোনা যেত সংলাপের কথা। এখন আর সংলাপের কথা শোনা যায় না। একনেত্রী বলছেন, শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে যাবেন। অন্য নেত্রী বলছেন, জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে বর্তমান সংবিধানের অধীনেই নির্বাচনে আসুন। আমি দুই নেত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, সংবিধান পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনুন। আপনারা জোটবদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করুন, দেখবেন সেই নির্বাচনে আমিই জয়ী হবো। আমি ক্ষমতায় গিয়ে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে দেশে সুশাসন আনবো। ১৬ কোটি মানুষের ৩শ নেতা, এটা মানা যায় না। আমার শাসনামলে ইরাকে সৈন্য পাঠানোর ঘটনায় দুই নেত্রী আমার বিরুদ্ধে হরতাল দিয়েছিলেন। এখন বিদেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ১০ হাজারেরও বেশি সেনা কাজ করছে। এখন ধর্মের কথা বললে রাজাকার ও জামায়াতি হয়ে যেতে হয়; কিন্তু এ দিন থাকবে না, নবী রাসুলকে কটূক্তি করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারে না।
