বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
মো. আতিকুল ইসলাম (জাহিদ)
সহকারি শিক্ষক
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ রাজশাহী
রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন
ট্রাফিক আইন না মানায় পুলিশ নুরুকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তার প্রভাবশালী মামার পরিচয় জানতে পেরে তাকে কোনো রকম শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেয়।
ক) উড্রো উইলসনের আইনের সংজ্ঞাটি লিখ।১
খ) তথ্য অধিকার আইনের তথ্য বলতে কী বোঝায়? ২
গ) উদ্দীপকে কোন বিষয়টির অভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ) “কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উক্ত বিষয়টির উপস্থিত থাকা একান্ত প্রয়োজন” আলোচনা করো। ৪
ক) উত্তর: উড্রো উইলসনের মতে,“ আইন হলো সমাজের যেসকল প্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং যা সরকারের অধিকার ও ক্ষমতার দ্বারা বলবত্ করা হয়”
খ) উত্তর: বাংলাদেশে সরকার ৫ এপ্রিল ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন জারি করে।
পৃথিবীর বহু দেশেই তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য বলতে কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যেকোনো স্মারক, বই, মানচিত্র দলিল নমুনাপত্র, চুক্তি, লগবহি, আলোকচিত্র, অডিও-ভিডিও যান্ত্রিকভাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দাপ্তরিক নোট সিট বা নোট সিটের প্রতিলিপি এর অন্তর্ভূক্ত হবে না।
গ) উত্তর: উদ্দীপকে যে বিষয়টির অভাব পরিলক্ষিত হয় তা হলো আইনের দৃষ্টিতে সাম্য।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে আইনের অনুশাসনের দুইটি ধারণা প্রকাশ করে। এগুলো হলো আইনের প্রাধান্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য।
উদ্দীপকের ঘটনাটি আইনের সাম্য বজায় না থাকায় নুরু তার অপরাধ সত্ত্বেও ছাড়া পেয়ে যায়। আইনের দৃষ্টিতে সাম্য মানে সমাজে ধনী দরিদ্র, সবল-দূর্বল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলেই সমান। আইনের চোখে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না। সকলের জন্য একই আইন প্রযোজ্য। রাষ্ট্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা তখনই খর্ব হয়, যখন আইনের অনুশাসন থাকে না। আইনের শাসনের অভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সচরাচর নাগরিকদের হয়রানি করে, বিনা অপরাধেও আটক করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আইনের শাসন কায়েম হয় না। আইন সকলের জন্য একই নিয়মে প্রয়োগ করতে হবে। যদি তা না হয় তবে সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। যার ফলে অপরাধের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে।
উদ্দীপকের নুরু তার ক্ষমতাশালী মামার পরিচয় ব্যবহার করে আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্যের বিষয়টিকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছে। সুতরাং উদ্দীপকে আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য বিষয়টির অভাব পরিলক্ষিত হয়।
ঘ) উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি হলো আইনের দৃষ্টিতে সাম্য। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে উক্ত বিষয়টির উপস্থিতি থাকা একান্ত প্রয়োজন।
বর্তমান প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই নিজেকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সুশাসন আবশ্যক। যে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিকের অংশগ্রহণসহ নাগরিকের সকল অধিকার নিশ্চিত করা হয় তাকে সুশাসন বলে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন আইনের অনুশাসন।
একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সর্বদা তার নাগরিকের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখে। আবার আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সকল নাগরিক সমানভাবে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা পেতে পারে। কেউ কারো অধিকার ক্ষুন্ন করতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
নিজেকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাষ্ট্রের করণীয় কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসাধারণকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করা, সমাজে শান্তি ভঙ্গকারীদের শাস্তির বিধান করা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আইনের অনুশাসনের অন্যতম দিক আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য বজায় না থাকলে উপরের কাজগুলো রাষ্ট্রের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইনে ধনী দরিদ্র বলে কোনো বৈষম্য নেই। আইনের চোখে সকলেই সমান। ফলে রাষ্ট্রীয় কাজে জবাবদিহিতার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং কাজে স্বচ্ছতা আসে।
উদ্দীপকের রাষ্ট্রটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র না হওয়ায় তাতে আইনের অনুশাসনের দিকটির অভাব পরিলক্ষিত হয়। তবে জনগণের অধিকার এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য উক্ত বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র এ বিষয়ে অধিক সচেতন। তাই নিজেকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই আইনের অনুশাসন অপরিহার্য।
