ফ্যাশনের রানি

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ১৯:৫৬
শুরুর কথা জুলিয়েট মাত্র ২০ বছর বয়সে ব্যবসার জগতে পথচলা শুরু করেন ‘মিস ও অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামের একটি সাইটের হাত ধরে। সেই সময় ওয়াশিংটনের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন তিনি। আর দশজন মেয়ের মতোই বান্ধবীদের সাথে ঘোরাঘুরি ও পড়াশোনা নিয়ে কাটছিল তার জীবন। একবার বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে তিনি সবার সাথে গিফট কিনতে গিয়েছিলেন। দোকানে তার নজর কেড়ে নেয় বারবি পুতুলগুলো। সেখান থেকেই মূলত এই সাইটের আইডিয়া আসে তার মাথায়। বারবি পুতুলের জগতটা তাকে বেশ নাড়া দেয়। দোকানে মেয়েদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বারবি পুতুল সাজানো ছিল। পুতুলগুলোর পোশাকের সৌন্দর্য তাকে অনুপ্রাণিত করে ফ্যাশন বিষয়ে। তত্ক্ষণাত্ একটি অনলাইন ম্যাগাজিন সাইট পাবলিশ চিন্তা আসে তার মাথায়। যে সাইটে সব বয়সী মেয়েরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। সেখানে তারা তাদের ফ্যাশন, পছন্দ, স্টাইল সম্পর্কে অন্যদের জানাতে পারবে, অর্থাত্ তাদের সবকিছু শেয়ার করতে পারবে। জুলিয়েট এরপর তার বন্ধুদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তারাও উত্সাহিত হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তারা একটি সাইট দাঁড় করানোর মতো তথ্য এবং আয়োজন সেরে ফেলে। এরপর শুধু একটি কাজই বাকি থাকে। সেটা হলো গ্রাফিক্স ডিজাইন। এই কাজটি তার ডিজাইনার মা করে দেন, যিনি একটি কোম্পানিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন। এরপর জুলিয়েট কিছু চেনা ক্যারেকটার তৈরি করেন তাদের সাইটের জন্য। এরমধ্যে হার্লি, ইসাবেলা, জাস্টিন প্রভৃতি স্থান পেয়েছে। নিজেদের ফ্যাশন জগতের সাথে আরও সম্পৃক্ত করার জন্য জুলিয়েট আর তার বন্ধুরা নিয়মিত হাজির হতে থাকেন ফ্যাশন শোগুলোতে। এমনকি ফ্যাশন কমিউনিটির সাথেও যুক্ত হন সদলবলে। এ বিষয়ক কোনো অনুষ্ঠান হলে ছুটে যেতেন তারা, সবগুলোতেই থাকার চেষ্টা করতেন আরও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য। এ বিষয় নিয়ে আজ তিনি বলেন, ‘অন্যরা এই সময়গুলোতে, মানে স্কুলের পরে, টিভি দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকত আর আমি ছুটতাম বিভিন্ন সেমিনারে, কীভাবে ম্যাগাজিনটা আকর্ষণীয় করা যায় তাই ভাবতাম।’ এত পরিশ্রমের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আমি বিক্রির মুডে আছি। আমার ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা ভাড়া দিচ্ছি।’ তিনি নিজেও তার ম্যাগাজিনের সাফল্য নিয়ে এতটা আশা করেননি কখনও। জুলিয়েটের জন্ম নিউ জার্সির ভোর্সি শহরে। তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হলো, পাবলিক রিলেশনের উপর উচ্চতর শিক্ষা নেবেন। সেই সাথে এই অনলাইন ম্যাগাজিনটিকে ছড়িয়ে দেবেন বিশ্বব্যাপী। ২০১০ সালে তার এই অনলাইন ম্যাগাজিনের ঝুলিতে এসেছে আরও সাফল্য। বিশ্বের বড় বড় সেলিব্রেটিদের ইন্টারভিউসহ ফ্যাশন সম্পর্কিত আরও অনেক খবরই এতে প্রকাশিত হয়, ফলে এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে দিনে দিনে। তবে জুলিয়েট শুধু ফ্যাশন ম্যাগাজিনেই আবদ্ধ নেই আজ, তিনি বেশকিছু টেলিভিশন প্রোগ্রামেও উপস্থাপনার কাজ করেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সিরিয়ালে তিনি কো-হোস্ট আর্টিস্ট হিসেবে আছেন। তার বয়সী মেয়েরা যখন নিজেদের সাজানো নিয়েই ব্যস্ত, তিনি তখন তাদের সাজ-সজ্জার ভাবনাগুলোকেই তুলে ধরছেন তার ম্যাগাজিনে। আর এই ব্যাপারটিই তার সাইটটিকে দিয়েছে জনপ্রিয়তা। তিনি লিওনা লুইস, ক্রিস ব্রাউন, সিয়েন কিংস্টোন ও লিল ওয়েইনের মতো তারকাদের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। এ রকম বড় বড় তারকাদের ফ্যাশন ভাবনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা তথ্যই পাওয়া যায় তার এই ওয়েব ম্যাগাজিনে। মজার ব্যাপার হলো এতকিছুর পাশাপাশি জুলিয়েট লেখালেখিও করে থাকেন। তার একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বইটির প্রায় ১২০,০০০ কপি বিক্রি হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই লিখতে পছন্দ করতেন তিনি। সেসময় থেকেই মোটামুটিভাবে এই বিষয় সম্পর্কে তার আগ্রহ প্রকাশ পায়। সেই সম্পর্কে নিজেই মন্তব্য করেছেন, ‘আমি এ ফ্যাশন জগতটা বেছে নিয়েছি ও এসব নিয়ে ভাবি কারণ ফ্যাশনের সাথে লেখালেখিরও একটা সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছি।’