ক্রিকেটই যার জীবন

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ১৯:৫৬
পরিবার কখনও চায়নি তিনি খেলোয়াড় হন। আর দশটি বাবা-মায়ের মতো তার পরিবারও চেয়েছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে ছেলে। কিন্তু যখন দেখল ছেলে ভীষণ ক্রিকেটপাগল তখন তার বড় ভাই মাহবুব মোর্শেদ তাকে প্রচুর উত্সাহ দিতে লাগলেন। তার উত্সাহে নাহিদ খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বড় ভাইয়ের কারণে বাবা-মা’ও পরে তাকে অনুপ্রাণিত করতে লাগলেন। কিশোর বয়সে স্কুলের বন্ধু বর্তমানে তার স্ত্রীও (নার্গিস মোর্শেদ কাকলি) প্রচুর উত্সাহ দিয়েছেন। এখনও দিয়ে চলেছেন। নাহিদ জানান ক্রিকেট কোচিংয়ে তার আসা মূলত স্ত্রীর অনুপ্রেরণায়। খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে কেন কোচ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যখন ক্রিকেট আমার স্বপ্ন, নেশা ও পেশায় রূপ নিল তখন ক্রিকেট নিয়ে পড়াশোনাও শুরু করলাম। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পর আমার মনে হলো ক্রিকেটের এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে বিলিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এই কারণটাই মুখ্য ছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও ডেভেলপ করতে নিজের ইচ্ছা থেকেই ক্রিকেট কোচিং পেশায় আসা।’ তার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ক্রিকেট কোচিং ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটা একটু অন্য ধরনের, মূলত বোনের ছেলের মাসনুনও ওয়ায়েজকে ক্রিকেট কোচিং দেওয়ার মাধ্যমে আমার ক্রিকেট কোচিংয়ের হাতেখড়ি। তারপর একাধারে বাংলাদেশ স্পোর্টস একাডেমী, চিটাগাং গ্রামার স্কুল (ঢাকা), বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং বর্তমানে আমি প্লেজ হারবার স্কুল অ্যান্ড স্পোটর্স একাডেমীতে (পিএইচএসএ) ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট কোচ হিসেবে কাজ করছি।’ প্লেজ হারবার স্কুুল অ্যান্ড স্পোটর্স একাডেমী কী কী ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এবং এটা কতটা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্লেজ হারবার স্কুল অ্যান্ড স্পোটার্স একাডেমীর ক্রিকেট কোচিং সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিকমানের। যেহেতু ক্রিকেট একটি আন্তর্জাতিক খেলা, তাই আমি ফিল্ডিং, বোলিং, ব্যাটিং, ইনডুরেন্স, শারীরিক কলা-কৌশলের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকি। তবে সবই আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ও সঠিক নিয়মনীতির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।’ বিকেএসপি থাকতেও আমাদের দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের দরকার কতটুকু রয়েছে বলে আপনি মনে করেন? উত্তরে নাহিদ বলেন, ‘বিকেএসপির পাশাপাশি অবশ্যই এ ধরনের ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আরও প্রয়োজন আছে। যত বেশি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে তত বেশি মেধা ও মননশীল খেলোয়াড় তৈরি হবে যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের সম্পদে পরিণত হবে। প্লেজ হারবার স্কুল একটি ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, যেখানে আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট মাঠ, ফুলবল মাঠ, আধুনিক মাল্টি জিম, সুইমিংপুল ও দেশের সর্ববৃহত্ ইনডোর মাঠ রয়েছে।’ এ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাচ্ছি এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে আরও কী কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে আপনার ধারণা, জবাবে নাহিদ বলেন, ‘এ প্রজন্মের ক্রিকেটারেরা অনেক ট্যালেন্ট এবং অনেক প্রফেশনাল। স্পোটর্স একটি চেইন, তাই যেকোনো এক সেক্টর ডেভেলপ করলেই চলবে না, ভালো এবং ট্যালেন্ট প্লেয়ার তৈরি করতে হলে ক্রিকেট কোচিং সেন্টার উন্নত করতে হবে। দেশে আম্প্যায়ার সেক্টর উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। টাকা না বাঁচিয়ে পাকা/সিমেন্ট পিচে (প্রফেশনাল ক্লাব) ক্রিকেট অনুশীলন না করে ন্যাচারাল ক্রিকেট পিচের অনুশীলন বাড়াতে হবে। নিয়মিতভাবে ক্রিকেট লীগ ও অনেক টুর্নামেন্টের আয়োজন করার পাশাপাশি খেলোয়াড়রাও যাতে সব সময় অংশগ্রহণ করতে পারে সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। অন্যদিকে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ও স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বেশি বেশি আয়োজন করতে হবে।’ সবশেষে নিজের ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘নিজেকে বাংলাদেশের স্বনামধন্য, গর্বিত ও প্রতিষ্ঠিত কোচ হিসেবে দেখতে চাই। এ জন্য নিরলস পরিশ্রম ও অধ্যবসায় করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আজীবন বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে যাওয়ায় আমার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা।’ মো. নিয়াজ মোর্শেদ নাহিদ ডাক নাম :নাহিদ জন্ম তারিখ :২৬ অক্টোবর ১৯৭৯ মায়ের নাম :মাহবুবা আক্তার বাবার নাম :হাজী মো. মোমেন প্রথম স্কুল :পরিবার প্রিয় মানুষ :হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রিয় উক্তি :আগের চেয়ে ভালো থেকো। প্রিয় পোশাক :ব্র্যান্ডের টি-শার্ট, জিন্স প্যান্টস, স্পোটর্স সানগ্লাস, অ্যাডিডাস ও নাইকি স্যান্ডেল অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, গান শুনে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা ও মেয়ে অঙ্কনের সাথে। সাফল্যের সংজ্ঞা :সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা।