চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগার প্রথম দল হিসেবে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব দেখাল। গত শনিবার জার্মান কাপের ফাইনালে কঠিন লড়াই উপহার দিয়ে দলটি ৩-২ গোলে স্টুর্টগার্টকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ে।
মারিও গোমেজের জোড়া গোলে প্রথম জার্মান ক্লাব হিসেবে এই নজির গড়ে ব্যাভারিয়ানরা। নাটকীয় এই ফাইনালে বায়ার্নের হয়ে পেনাল্টি থেকে অপর গোলটি করেন থমাস মুলার। গোমেজ আলোয় বৃথা গেছে স্টুর্টগার্টের জোড়া গোল করা মার্টিন হার্নিকের কৃতিত্ব। ফাইনালে বায়ার্ন ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। স্টুর্টগার্ট হার্নিকের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ প্রচেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
ইতিহাসের সপ্তম ক্লাব হিসেবে বায়ার্ন ট্রেবল বা এক মৌসুমে তিন শিরোপা জয় করল। গত ২৫ মে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অল জার্মান ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে নিজেদের পঞ্চম ইউরোপিয়ান শিরোপা জয় করে বায়ার্ন। এছাড়া জার্মানির অন্যতম শক্তিশালী দলটি রেকর্ড ৯১ পয়েন্ট নিয়ে বুন্দেসলিগা জেতে। তাও আবার ২৫টি রেকর্ড কিংবা কোন কোন রেকর্ডের সমকক্ষতা গড়ে। বায়ার্নের এটি রেকর্ড ১৬তম জার্মান কাপ জয়।
বায়ার্নের আগে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে ইন্টার মিলান (২০১০), বার্সেলোনা (২০০৯), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১৯৯৯), পিএসভি আইন্দহোভেন (১৯৮৮), আয়াক্স আমস্টারডাম (১৯৭২) এবং সেল্টিক (১৯৬৭)।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে ৬৮ বছর বয়সী কোচের সাথেও বায়ার্নের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। দুই বছর বায়ার্নের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অবশ্য এর আগেও তিনি দুই দফায় বায়ার্নের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যত্ নিয়ে তিনি কিছুই জানাননি। জার্মান কাপ জয়ের পর তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রকাশ করব।’
মারিও মানজুকিচ নয়; ফাইনালে বায়ার্নের প্রথম একাদশে ছিলেন স্ট্রাইকার গোমেজ। দুটি গোলই তিনি করেন দ্বিতীয়ার্ধে। অবশ্য প্রথমার্ধে মুলার পেনাল্টি থেকে বায়ার্নকে প্রথম গোল এনে দিয়েছিলেন। তবে গতিময় হেডে ৭১ মিনিটে অস্ট্রিয়ার হারনিক একটি গোল এনে দেন স্টুর্টগার্টকে। নয় মিনিট পরেই আবারো বায়ার্নের জালে বল জড়িয়ে দিলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে শ্বাসরুদ্বকর ফাইনালে শেষ হাসি হাসে বায়ার্ন শিবির।
এই মৌসুমে বায়ার্নের দাপট নৈপুণ্য বুঝে নেয়া যায় পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলেই। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ খেলায় ৪৫টিতে জয় পেয়েছে হেইঙ্কসের দল। অধিনায়ক ফিলিপ লাম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত জার্মান ফুটবলে আগে কখনো যা হয়নি তা আমরা অর্জন করেছি। এই দলটি যা করে দেখিয়েছে তা অবিশ্বাস্য ।’
এদিকে বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা আগামী ২৬ জুন বায়ার্নের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। পুরো মৌসুমে মাত্র তিনটি ম্যাচে হেরেছে বায়ার্ন এবং লিগে ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে। স্বপ্নের মত ছিল বায়ার্নের এই মৌসুমটি। বায়ার্নের ডাচ তারকা আরিয়েন রোবেন বলেন,‘এই দলটির অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের পর এটি সহজ ছিল না। আমরা ইয়াপ হেইঙ্কসের জন্য ট্রিপল জিতেছি এবং আমি মনে করি আমরা যোগ্য দাবিদার।’
