কেশবপুরে আত্মগোপনে থাকা চরমপন্থিরা সংগঠিত হচ্ছে

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ২২:১০
যশোরের কেশবপুর উপজেলার আত্মগোপনে থাকা চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এদের বিচরণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাঁজিয়া, সুফলাকাটি, গৌরিঘোনা, মঙ্গলকোট, বিদ্যানন্দকাটি, মজিদপুর ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামগুলোতে তাদের বিচরণে সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। পত্রিকায় নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সামপ্রতিককালে তারা এলাকায় ফিরে এসে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার কাজ শুরু করেছে। তারা এলাকার সাহসী, মাদকসেবী ও বখাটেদের নিয়ে রাতের আঁধারে বৈঠক করছে বলে জানা গেছে। থানার নতুন নতুন পুলিশ অফিসারদের এদের সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাদের চলাফেরায় কোন অসুবিধা হচ্ছে না। এদের প্রকৃত তথ্য পুলিশ প্রশাসনও পাচ্ছে না। যে কোন মুহূর্তে শান্ত কেশবপুর অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউনিয়নসমূহের চেয়ারম্যানরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও তেমন কোন সুফল পাওয়া যায়নি । কেশবপুরে নিউ বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি (মৃণাল)ও বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি (এম, এল,হক গ্রুপ) তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নামে। দীর্ঘদিনের দখলে রাখা কেশবপুর হাতছাড়া হয়ে যায় বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টির । নিউ বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি গোটা কেশবপুরের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। মুহূর্তে এরা প্রতিপক্ষ দমন অভিযানে নামে। ইতিপূর্বে এদের হাতে নির্মম ভাবে খুনের শিকার হয় কৃষক নেতা মনোহরনগর গ্রামের কামরুল ইসলাম (৩২), ছা্ত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম (২৬), আড়ুয়া গ্রামের রউফ গাজি (৫৫), বসুন্তিয়া গ্রামের জামসেদ আলি(৪৫),মনিরামপুরের ঠিকাদার আনিচ (৩৫), পলাশ (৩৪),শানতলা গ্রামের খেজের আলি (৫৬)। অপহরণের পর গুম করা হয় কৃষক নেতা কৃষ্ণনগর গ্রামের গোবিন্দ সরকার (৫৬) ও কাশিমপুরের জাকির হোসেনকে (৩৬)। তাদের হাতে পঙ্গুত্ব বরণ করে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি। এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির ভিতর দিন কাটাতে হয় কেশবপুরের মানুষদের। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, চরমপন্থি দলের ক্যাডারদের ব্যাপারে প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা দিতে পুলিশী তত্পরতা অব্যহত আছে।