বেড়ানো

বর্ষায় শীতলক্ষ্যা

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ১৮:৫৫
 আলোকচিত্র ও লেখা :মুস্তাফিজ মামুন  বর্ষায় শীতলক্ষ্যা দেখেছেন? শীতে যেমন এ নদীতে নাক চেপে চলতে হয়, বর্ষায় কিন্তু তেমনটি নয়। পানি বৃদ্ধির ফলে দূষণকবলিত শীতলক্ষ্যা বর্ষায় প্রাণ ফিরে পায়। এর দু পাশের দৃশ্যও সবুজ সতেজ হয় বৃষ্টির জলে ভিজে। এ সময়ে তাই শীতলক্ষ্যায় ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন পাশের ঢাকার সৌন্দর্য। আর বেড়িয়ে নিতে পারেন প্রাচীন স্থাপনা মুরাপাড়া জমিদার বাড়ি, নওয়াপাড়া জামদানি পল্লীসহ আরও অনেক কিছু। বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থা বেঙ্গল ট্যুরস প্রতি বছরের ন্যায় এবারের বর্ষায়ও শীতলক্ষ্যায় আয়োজন করেছে নৌ বিহারের। তাদের নিজস্ব ভ্রমণতরী এমভি ডিঙ্গিতে চড়ে এ ভ্রমণে শীতলক্ষ্যার বুকে বসে শরীরটা ভিজিয়ে নিতে পারেন নির্মল বাতাসে। ইচ্ছে হলে শীতলক্ষ্যার বুকে সাঁতারও কাটতে পারেন। এ ভ্রমণের শুরুটা হবে বেঙ্গলের বনানী কার্যালয় থেকে। সেখান থেকে তাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে সকালে নিয়ে যাওয়া হবে সরাসরি ডেমরা ঘাটে। সেখান থেকে এমভি ডিঙ্গিতে শুরু হবে নৌ ভ্রমণ। সকালের নাস্তা খেতে খেতে লঞ্চ চলতে শুরু করবে শীতলক্ষ্যার বুকে। শিল্প-কারখানায় ঠাসা এর দুই পাড়ের কোথাও কোথাও এখনও দেখা মেলে চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের। ঘণ্টাখানেক চলার পরে লঞ্চ এসে নোঙর করবে মুরাপাড়ায়। এখানেই পুরোনো এক প্রাসাদ ‘মুরাপাড়া জমিদার বাড়ি’। বর্তমানে এ বাড়িতে চলছে মুড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রম। জমিদার বাড়ির সামনেই রয়েছে বিশাল আকৃতির পুকুর। প্রাচীন এ প্রাসাদটি বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় ৯৫টি কক্ষ সম্বলিত এ প্রাসাদে অতিথিশালা, নাচঘর, পূজা মণ্ডপ, কাছারিঘর, আস্তাবলসহ আরও বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত। জানা যায় জমিদার রামরতন ব্যানার্জি এর নির্মাণ শুরু করেছিলেন ১৮৮৯ সালে। ১৮৯৯ সালে তার ছেলে বিজয় চন্দ্র এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন। পুরোনো এ জমিদার বাড়িটি দেখিয়ে আবারও লঞ্চ ছাড়বে নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে। এরই মাঝে দুপুরের খাবার পর্বটা সেরে ফেলা হবে। দুপুরের খাবার শেষ করতে করতে ডিঙ্গি এসে নোঙর করবে নওয়াপাড়ায়। এখানে আছে দেশের অন্যতম বড় জামদানি পল্লী। এখানে সবাই নেমে পড়বেন জামদানি পল্লী ঘুরে দেখতে। এখানে সচক্ষে দেখা মিলবে জামদানি তৈরির নানান কৌশল। কীভাবে নিপুণ শৈলীতে জামদানি শিল্পীরা হাত চালিত তাঁতে জামদানি তৈরি করেন, দু-দণ্ড দাঁড়িয়ে দেখে নিতে পারেন। ইচ্ছে হলে প্রিয়জনের জন্য কিনেও নিতে পারেন তুলনামূলক কম দামে। নওয়াপাড়া জামাদানি পল্লী ঘুরে আবারও লঞ্চে। সেখান থেকে ফিরে এসে লঞ্চ ছেড়ে দিবে ডেমরা ঘাটের উদ্দেশ্যে। সেখানে থেকে ফিরে বিকেল চারটা-পাঁচটা নাগাদ বাস ছাড়বে ঢাকার উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া যারা শীতলক্ষ্যায় রাতযাপন করতে চান তাদের জন্যও একটি ভিন্ন প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে বেঙ্গল কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে প্রথম দিন সকালে যাত্রা শুরু করে লঞ্চ শীতলক্ষ্যা ধরে কালিগঞ্জের দিকে চলতে থাকবে। রাতে নিরাপদ কোথাও নোঙর করে রাখা হবে। এ ছাড়া রাতে থাকবে বার-বি-কিউর ব্যবস্থা। পরদিন খুব সকালে আবার লঞ্চ চালানো হবে মুরাপাড়ার উদ্দেশ্যে। ফিরতি পথে নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী দেখিয়ে দুপুরের খাবারের পর আবার একইভাবে ঢাকায় যাত্রা। খরচপাতি সংস্থার পরিচালক রফিকুল ইসলাম নাসিম জানান, এক দিনের এ ভ্রমণে জন প্রতি লাগবে ২৫০০-৫০০০ টাকা। আর দুই দিন এক রাতের ভ্রমণে জন প্রতি খরচ হবে ৩৫০০-৬০০০ টাকা। ভ্রমণ দলে ১৯ জন হলে জনপ্রতি সর্বনিম্ন খরচ পড়বে আর ৪৪ জন হলে সর্বোচ্চ খরচটি পড়বে। ভ্রমণ মূল্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ঢাকা থেকে এসি বাসে ডেমরা ঘাটে যাওয়া আসা, ভ্রমণকালীন সময়ে খাবার ও স্ন্যাকস, সাইট সিয়িং ইত্যাদি। যোগাযোগ : বেঙ্গল ট্যুারস লিমিটেড, বাড়ি-৪৫, রোড-২৭, ব্লক-এ, বনানি, ঢাকা। ফোন: ০২-৯৮৫৭৪২৪, ০১৭৭৫১০৫৩৫১। ইমেইল :[email protected] ওয়েবসাইট :www.bengaltours.com