ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিকপক্ষের কয়েক জনের সঙ্গে কথাবার্তাশেষে রবিবারই বিসিবি সভাপতির কাছে চলমান বিতর্ক নিয়ে প্রাথমিক একটা তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে গেছে আকসু। সাংবাদিকদের দিনভর অপেক্ষার পর জানানো হল, গতকাল নয়, আজ দুপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ‘ক্রিকেটার চলমান নানা ইস্যু’ নিয়ে বোর্ডের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন
আগামী বছরের শুরু থেকেই ঢাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মেলা বসবে। প্রথমে এশিয়া কাপ, পরে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জমজমাট হয়ে উঠবে পুরো বাংলাদেশ; মূলত মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম। কাল দুপুরে মনে হল, মেলাটা একটু আগেই বসে গেছে! স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিস পর্যন্ত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন আর সাংবাদিকদের বিশাল ভিড়। এক কর্মকর্তা পর্যন্ত অবাক হয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার বিশ্বকাপ চলছে নাকি?’
না, বিশ্বকাপ চলছে না। চলছে বাংলাদেশ কাঁপানো স্পট ফিক্সিং কান্ড। আর বিসিবির কাছ থেকে সেই স্পট ফিক্সিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুনতেই গতকাল সাংবাদিকরা ভিড় জমিয়েছিলেন মিরপুরে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট পেয়েও বিসিবি কালও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানালো না; আজকের জন্য তোলা রয়েছে সেটা। তবে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও এটুকু অন্তত জানা গেছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট বিসিবি নিজেই পায়নি। আর প্রাথমিক যে রিপোর্ট তারা পেয়েছে, এর ওপর ভর করে আপাতত তারা কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না বলেই জানা গেল। তবে রিপোর্টে কোনো খেলোয়াড়ের বিপক্ষে সরাসরি অভিযোগ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের খেলা থেকে দূরে রাখা হবে।
আকসুর জেরা ও তদন্ত আপাতত শেষ হয়েছে রবিবার। এ পর্বে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিকপক্ষের কয়েক জনের সঙ্গে কথাবার্তাশেষে রবিবারই বিসিবি সভাপতির কাছে চলমান বিতর্ক নিয়ে প্রাথমিক একটা তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে গেছে আকসু। সাংবাদিকদের দিনভর অপেক্ষার পর জানানো হল, গতকাল নয়, আজ দুপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ‘ক্রিকেটার চলমান নানা ইস্যু’ নিয়ে বোর্ডের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
সভাপতি পাপনের এই সংবাদ সম্মেলনের আগে একটা অনানুষ্ঠানিক জরুরি বৈঠকে বসবে বিসিবির এডহক কমিটি। এটাকে জরুরি বা কোনো ধরনেরই আনুষ্ঠানিক বৈঠকের স্বীকৃতি দিতে চাইছে না বোর্ড। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানালেন, বোর্ড পরিচালকরা এমনিতেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন।
ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া বিপিএল দ্বিতীয় আসরের অন্তত দুটি ম্যাচ নিয়ে তদন্ত করছে আকসু। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাস দেড়েক কয়েক দফা ঢাকায় এসে আকসুর প্রতিনিধি দল ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট অনেককে জেরা করেছেন। এই তদন্তপর্বে বিদেশি অনেক খেলোয়াড়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আকসুর কর্মকর্তারা। তদন্তে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের তিন ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, মাহবুবুল আলম ও মোশাররফ হোসেন। বাংলাদেশে তাদের এই কাজে সহায়তা করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
এই তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন আশরাফুল অভিযোগের আঙুল তোলেন তিন সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ ও মোহাম্মদ রফিকের দিকে। আগেই জানা গেছে, বিসিবির কাছে আকসু যে প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে এই তিনজন সম্পর্কে তেমন কোনো অভিযোগ থাকছে না; যেহেতু তাদের নামে অভিযোগ বিপিএল কেন্দ্রিক নয়। তবে গতকাল জানা গেল, এদের নামে যদি আকসু কোনো তদন্তের সুপারিশ করে, বিসিবি সেই অধিকতর তদন্তটা করবে।
অধিকতর তদন্ত বিপিএল নিয়েও হয়তো করা হতে পারে। অন্তত তেমনই আভাস পাওয়া গেল বিসিবির বিভিন্ন সূত্র থেকে। সাধারণ আইন অনুযায়ী আকসুর রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিসিবির ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কথা। কিন্তু সেই ১০ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এখনই গঠিত হবে কি না; তা নিয়ে সংশয় আছে। বিসিবি এ ক্ষেত্রে আকসুর কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।
আর সে পর্যন্ত যাদের নামে সরাসরি অভিযোগ থাকবে না; তারা হয়তো খেলার মধ্যেও থাকতে পারবেন। কিন্তু যদি কারো নামে সরাসরি অভিযোগ থাকে, তাহলে তদন্ত ও ট্রাইবুনালের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের খেলার বাইরে রাখা হবে।
এখানে আরেকটি ব্যাপার বিসিবির একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, আকসুর এই প্রতিবেদনে ঢাকা-চিটাগং ম্যাচটিকে অর্থের বিনিময়ে পাতানো বলে উল্লেখ করা হবে না; এটি দুই মালিক পক্ষের সমঝোতার ফল বলে উল্লেখ করা হতে পারে। তেমন ক্ষেত্রে এটি বিসিবির ‘এন্টি করাপশন’ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। তবে বলাই বাহুল্য, সমঝোতায় ম্যাচের ফলাফল ঠিক করে রাখাটাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ও বিসিবির অন্য আইন অনুযায়ী বড় অপরাধ।
