দুই ঘন্টা পর ওয়াক আউট

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২২:৫১
গতকাল সোমবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিলেও দুই ঘণ্টা পর ওয়াকআউট করেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সদস্যরা। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। বিরোধী দলের সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন আলমগীরের দেয়া মৌখিক নির্দেশকে অনৈতিক মন্তব্য করে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯ মে মিরসরাইয়ে বলেছেন, সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এটা অনৈতিক। এরপর তিনি আবার বলেন, আগামী এক মাস সভা-সমাবেশ করা যাবে না। পরে বিবিসিকে বলেন, সরকারের অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করতে পারবেন। তবে তার নিজের মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে কোন আদেশ জারি করেননি। এমনকি মন্ত্রিসভায়ও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের কোন নির্দেশও পায়নি। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনবার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের কথা বলেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ১৪ দলের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের নিন্দা করা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ১৪ দলের নেতারাও বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য অসাংবিধানিক। মওদুদ বলেন, আমরা কোন দেশে আছি? এটা কি গণতান্ত্রিক নাকি স্বৈরতান্ত্রিক দেশ? স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। আপনি সুন্দন করে গণতন্ত্র, মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের কথা বলেছেন। সুন্দর লেগেছে। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে এর কোন মিল নেই। তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ করতে না দিলে গণতন্ত্র আছে বলে আমরা মনে করি না। দেশবাসীও মনে করে না। তিনি বলেন, আইন থাকলে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা যায়। তবে দেশে সে ধরনের কোন আইন নেই। একমাত্র জরুরি আইনেই এটা করা যায়। তাহলে কি ধরে নেব মুখের কথায় দেশে জরুরি আইন জারি করা হয়েছে? ব্যারিস্টার মওদুদ সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকবেন না। আমরাও চিরদিন বিরোধী দলে থাকবো না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা করেছেন তা এ সরকারের অন্যতম কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি দুঃখ প্রকাশ করলে তার সম্মানহানি হবে না। বরং সম্মান বাড়বে। তিনি সেটা করলে সংসদ কার্যকর করতে আমরাও ভূমিকা রাখব। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক ঘোষণার প্রতিবাদে ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই আমরা ওয়াকআউট করলাম। এরপর ব্যারিস্টার মওদুদ বিরোধী দলের এমপিদের নিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় সরকারি দলের এমপিরা তুমুল চিত্কার-চেচামেচি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।