যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে গতকাল সোমবার রংপুরে বিএনপির ডাকা অর্ধদিবস হরতালকে কেন্দ্র করে কমপক্ষে ৫০টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। সকালে জেলা যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক এনায়েত হোসেনকে দুটি ককটেলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানার এসআই চন্দন কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে এনায়েতকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
ভোরে মহানগরীর চকবাজার কামারের মোড়, মাহিগঞ্জ, শরেয়ার তল ও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রের সামনে সড়কে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সড়কে পেট্রোল ঢেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে এবং ৮/১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে। দুপুরে হরতালের সমর্থনে গ্রান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয় থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অপরদিকে হরতালের আগের রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাস, ট্রাক ও মিনি বাসসহ কমপক্ষে ৪০টি যানবাহন ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা। যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগে গত রবিবার রাতে মহানগরীর ধর্মদাস এলাকার তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন জেলা ছাত্রদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহীন আলম, শহীদ জিয়া ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন সুমন ওরফে ব্লাড সুমন, ছাত্রদল কর্মী হেলালসহ ১৫/২০ জন অজ্ঞাত নেতাকর্মী। রবিবার রাতে আটককৃত আলম নামের এক যুবদল কর্মীকে ওই মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে। গতকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা হরতালের ফলে দূরপাল্লাসহ আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল না করলেও নগরীতে কিছুসংখ্যক রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করেছে। বন্ধ ছিল বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নাশকতা এড়াতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি ছিল র্যাবের টহল।
