জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের টেকনাফে দিন দিন লিচু চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত সুমিষ্ট এবং সুস্বাদু এই ফল এখন টেকনাফের হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
প্রবীণ এক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় টেকনাফের মাটি লিচু চাষের জন্য উপযোগী ছিল না। বিভিন্ন সময়ে এখানে কিছু কিছু এলাকায় লিচু গাছের চারা রোপণ করা হলেও তখনকার কৃষকরা মোটেও সফল হতে পারেননি। তবে বর্তমানে টেকনাফের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য বেশি উপযোগী বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লোকেরা। কয়েকজন লিচু চাষি বলেন, খানিকটা উঁচু জমি লিচু চাষের জন্য উপযোগী।
কৃষি বিভাগ জানায়, টেকনাফে মাত্র ২ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। স্থানীয় জাত চায়না-৩ এবং হালিপূরী লিচুর চাষ করেছেন এখানকার কৃষকরা। স্থানীয় জাতের লিচু উন্নত জাতের চেয়ে আগাম ফলন দেয়। তাই কৃষকরা মৌসুমের শুরুতে লিচু বাজারে তুলতে পারেন। এই কারণেই টেকনাফের বাজারে আগাম লিচু বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার রঙ্গিখালী এলাকার কৃষক আবুল কালাম জানান, চারা রোপণের ৪/৫ বছরের মধ্যে লিচু গাছ ফলন দেয়। গাছে মুকুল হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে লিচু খাবারের উপযোগী হয়। সাধারণত বৈশাখ মাসের শুরুতে স্থানীয় জাতের লিচু পরিপক্বতা লাভ করে। পানখালী এলাকার কৃষক ফেরদৌস জানান, আমার বাগানে ৮টি লিচু গাছ রয়েছে। প্রতি গাছে ২০ হাজারেরও বেশি লিচু ধরে। মৌসুমে আমি লিচু বিক্রি করে ২ লক্ষাধিক টাকা আয় করছি।
হোয়াইক্যং কাঞ্জরপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল জলিলের পুত্র আমান উল্লাহ জানান, আমাদের বাগানে ৪০টি লিচু গাছ আছে। বেশির ভাগ গাছে লিচুর ফলন হয়েছে। অল্প পুঁজিতে মাত্র ৩/৪ বছরে লিচুর ফলন দেয় জানিয়ে ক্ষুদে এই কৃষক আরো জানান, বাজারে লিচুর চাহিদা এবং মূল্য থাকায় খুচরা-পাইকারি বিক্রেতার বাগানে এসেই লিচু নিয়ে যাচ্ছে। কাঞ্জরপাড়া এলাকার লিচু চাষি আব্দুল জলিল ইত্তেফাককে জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তা পেলে লিচু চাষে এতদঞ্চলের কৃষকরা ঝুঁকবে এবং সফলতা পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাহাদুর শাহ তপু ও মৌলভী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গরম কালে অন্যান্য ফলের চেয়ে লিচু ছেলে-মেয়েদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত এই ফলে কোনো ধরনের ফরমালিন নেই।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম জানান, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকার কৃষকরা লিচু চাষের দিকে ঝুঁকেছে। কৃষকরা যখনই সহযোগিতা চাচ্ছেন তখনই মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, টেকনাফের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য উপযোগী। জলবায়ুগত কারণে এখানে লিচুর আগাম ফলন পাওয়ায় যায়। তাতে কৃষকরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে লিচু চাষের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
