শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:২০
রাজনৈতিক নেতারা নিজের নীতিকে বড় মনে করছে অর্থনীতি তাদের ভাবনার বাইরে রেখেছে রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় আসলেই মনে করে দেশটা যেন তাদের। তারা শুধু নিজের ক্ষমতা পাওয়ার জন্য যা খুশি তা করছে। হরতাল দিচ্ছে। দেশের জান-মালের কোন নিরাপত্তা দিচ্ছে না। প্রতিনিয়ত গুম আর হত্যায় আতংক বনে গেছে দেশের মানুষ। রাজনৈতিক দলগুলো শুধু তত্ত্বাবধায়ক আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়েই দেশের আনাচে-কানাচে সভা-সমাবেশ করছে। মোটা গলায় বক্তৃতা দিচ্ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কুফল-সুফল নিয়ে আধো কোন সভা-সমাবেশ হচ্ছে না। সম্প্রতি পদ্মাসেতু দুর্নীতি, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ, শেয়ারবাজার, হলমার্ক কেলেংকারি, দেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়েছে কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কোন খোঁজ নেই— তার বক্তব্য শুধু ড. ইউনূসকে ঘিরে। অযোগ্য প্রার্থীকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার শুধু নিজেই শ্রান্ত না, দেশের নিরীহ জনগণসহ ব্যবসায়ীরাও আজ পথে বসেছে। এদিকে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার গ্লানিস্বরূপ বিদেশ থেকে বাঙালি শ্রমিক বিতাড়িত করছে। রানা প্লাজা ধসের ফলে হাজারও শ্রমিক পথে বসেছে। গার্মেন্টস মালিকরা ঠিকই যেভাবে হোক টাকা কামিয়ে দেশ ছাড়ছে আর বিদেশের ব্যাংক ভর্তি করছে। অনেকে সরকার দলীয় আমলা বলে পাড় পেয়ে যাচ্ছে নিমিষেই। প্রশাসন শুধু যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু সেরা দুর্নীতিবাজরা দুদকের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। দেশ ও জাতির শান্তির স্বার্থে সরকারের এ মুহূর্তে একটা কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া দরকার, সে ক্ষেত্রে যদি পদত্যাগও করতে হয় তবে সরকারের এটা হবে দেশের প্রতি অনুরাগের এক অত্যাবশ্যকীয়, দৃষ্টান্তমূলক কীর্তি, এতে লজ্জার কিছু নেই। চিরকাল বাঙালি জাতি তাদের স্মরণ করে রাখবে। মো. সাইদুল হাসান (সাদ্দাম) পদার্থবিদ্যা বিভাগ, তিতুমীর সরকারি কলেজ, ঢাকা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের বাদ দিয়ে কখনোই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কথা কল্পনাও করা যায় না অনেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বিভিন্ন কথা বলে থাকেন। আমি মনে করি এই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। যদি তারা দৃষ্টান্তমূলক কোন ভূমিকা দেখাতে পারেন। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের বাদ দিয়ে কখনোই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কথা কল্পনাও করা যায় না। আর সেই সুযোগে কিছু কিছু রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে তাদের খায়েস পূরণ করায় ব্যস্ত থাকেন। সেই হিসাব-নিকাশের জবাব মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রদান করেন। আমরা পূর্বে সকল ক্ষমতাসীন দলের আমল পর্যবেক্ষণ করেছি। বর্তমানে নিশ্চয় আমরা চাইবো না এই দেশে সামরিক শাসন কায়েম হোক। আমরা নিশ্চয় এই দেশে আবার একনায়কতন্ত্রের চেহারা দেখতে চাইবো না। যদি তাই হয় তাহলে আমরা আশা করি এই দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতিবিদদের সব ঝেড়ে-মুছে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের ব্যক্তিসত্তাকে পেছনে ফেলে এখন দেশকে ভালবাসার প্রমাণ দিতে হবে। বর্তমানে যে সকল সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো সমাধান করা খুব কঠিন কাজ নয়। যেভাবে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন চাচ্ছেন, যদি দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হয় আর সেই নির্বাচনে যদি বিরোধী দল জয় লাভ করে তাহলে কি বিরোধী দল এই জয় মেনে নিবে না? এখন পূর্বে কি হয়েছে না হয়েছে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ না করে, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো যদি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙ্গে না পড়ে সেই স্বার্থকে বিবেচনায় এনে, আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য সব হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে দেন, তাহলেই শান্তিপূর্ণভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে বলেও আশা করা যায়। মোহাম্মদ এহিয়া মিরপুর ল’ কলেজ, মিরপুর, ঢাকা একটি সুন্দর নির্বাচনই পারে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি খুব দুর্বল। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্নভাবে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চেয়েছি। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু কারণে বার বার আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আর তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। তার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি লোক বেকার। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে শুধু। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে অর্থনীতিতে মাসে কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। সামনে নির্বাচন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর অর্থনীতির অনেক অংশ নির্ভর করছে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের একটি, কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকে যায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এতো দুর্বল কেন? পৃথিবীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিবেশসম্মত করার লক্ষ্যে নানা ধরনের নিয়ম-কানুন তৈরি করা হচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরের নাগরিক কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপকার ভোগ করতে পারে সেই চিন্তা-ভাবনা নিয়ে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে বিশ্বের অন্য দেশসমূহের। এই অবস্থায় যদি একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন না হয় তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো ভেঙ্গে পড়বে। সনেট দেব বি.এস.এস সম্মান, তৃতীয় বর্ষ অথর্নীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নির্ভর করে ক্ষমতা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তৃতীয় বিশ্বের নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকার যখন জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলে তখন ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে কুক্ষিগত করার জন্য শক্তি প্রয়োগ শুরু করে। আর তখনই শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। আর একটি দেশের সার্বিক বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে। ঐ দেশের দক্ষ জনগণ এবং সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থিতিশীলতার উপর। এই দৃষ্টিকোণ্ থেকে ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত’—উক্তিটি সম্পূর্ণ সঠিক। কারণ আমরা প্রত্যেকেই কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয়াবহ রূপ তথা ফল ভোগ করে আসছি। তাছাড়া বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ হরতাল বা ১৩ দফার নামে যেসব কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে তাতে জনগণের দৈনন্দিন আয় কমেছে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যঘাত ঘটেছে, আমদানি-রপ্তানি কমেছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে— সর্বোপরি, জিডিপি কমতে শুরু করেছে যেগুলো একটি দেশের অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার পূর্ব লক্ষণ। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে যদি ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতিতে ‘ধস’ না দেখতে হয় আমাদের তথা বর্তমান সরকারের উচিত শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরবর্তী একটি গ্রহণযোগ্য সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আর এই ধারাবাহিকতায় আমরা বাংলাদেশকে একটি অর্থনীতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারব। সারোয়ার আলম অনার্স (৫ম সেমিস্টার) অর্থনীতি বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ