দেশের একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির নিকট থেকে মূসক বাবদ চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমপরিমাণ টাকা অনাদায়ী রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির নিকট মূসক বাবদ বকেয়া পড়েছে ৪ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও ইস্টার্ন রিফাইনারি তথা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তা পরিশোধ না করায় এই বিশাল পরিমাণ বকেয়া জমেছে। বিপিসি নিয়ন্ত্রণাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি কর্তৃক বছরে প্রায় ১২ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রায় ১ লাখ টন পরিশোধিত অকটেন আমদানি করে থাকে। চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ইস্টার্ন রিফাইনারির নিকট মজুদ থাকা অবস্থায় এবং পরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট বা মূসক আদায় করে থাকে। এ মাসেই চলতি অর্থবছরের সময় শেষ হচ্ছে। অথচ ইস্টার্ন রিফাইনারির বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিপিসিকে পত্র দেয়া হয়েছে। তাছাড়া কমিশনারেটের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো ৯২৬ কোটি টাকা দরকার।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. জামাল হোসেন গত সপ্তাহে বিপিসি’র চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত পত্রে গত কয়েক বছর ধরে মূসক বাবদ বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ করেন। কমিশনার জামাল হোসেন জানান, প্রতি অর্থবছরের শেষ সময় বিপিসি একটা বিরাট অংকের বকেয়া পরিশোধ করে থাকে। এবারও অনুরূপ সাড়া পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিপিসি’র চেয়ারম্যানকে দেয়া পত্রে বলা হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রতি মাসে গড় মূসক প্রদেয় হচ্ছে ১২০ কোটি টাকা, কিন্তু এর বিপরীতে প্রতিমাসে জমা প্রদান করে ৫০ কোটি। ফলে মাসে বকেয়া পড়ে ৭০ কোটি টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছর ধরে বকেয়া দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর সাথে অর্থদণ্ড বাবদ ৫০ লাখ টাকা। বিধি বহির্ভূতভাবে গৃহীত রেয়াত বাবদ ৩ হাজার ৪৯ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা এবং মূসক হিসাব ত্রুটিজনিত কারণে ২ কোটি ৭০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকাসহ বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। পত্রে বলা হয়, একাধিকবার দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। ইস্টার্ন রিফাইনারি বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থানীয় মূসক খাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুঃসাধ্য হবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপিসি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয় এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ শিগগির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
