চট্টগ্রামে শহররক্ষা বাঁধের উপর চার লেন সড়ক না করার দাবি

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৩, ২২:৩০
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধের ওপর চার লেনের সংযোগ সড়ক না করার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিকরা। এ সড়ক নির্মাণের ব্যাপারে সিডিএ‘র উদ্যোগকে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা। রাস্তা নির্মাণের পরিবর্তে তারা ভেড়িবাঁধটিকে আরও উঁচু ও মজবুত করে এর ওপর বনায়ন করে বিনোদন উপযোগী করার পরামর্শ দেন। এছাড়া, অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে টানেল রোড নির্মাণেরও বিরোধিতা করেন বন্দরনগরীর বিশিষ্টজনেরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর সেকান্দর খান, সাধারণ সম্পাদক স্থপতি জেরিন খান, স্থপতি বিধান বড়ুয়া, নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ও শাহরিয়ার খালেদ। রাস্তা নির্মাণের বিপক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে তারা বলেন, পরিকল্পনা ও প্রকৌশলগত দিক থেকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ সমুদ্রপাড় দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের জন্য প্রধান সংযোগ সড়ক নির্মাণ মোটেই সঙ্গত ও নিরাপদ নয়। যে কোন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণে সংযোগ সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তখন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে পণ্য পাঠানোর কাজ বিঘ্নিত হতে পারে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সড়কের যে ক্ষয়ক্ষতি হবে তা মেরামত খুবই ব্যয়সাপেক্ষ হবে। এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে, জীবন ও সম্পদরক্ষার জন্য শহররক্ষা বাঁধটিকে আরও মজবুত করা। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সভাপতি প্রফেসর সেকান্দর খান ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে উপকূলীয় এলাকাকে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ জোন হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শহররক্ষা বাঁধকে প্রয়োজনীয় উচ্চতায় করার ও বনায়ন করার সুপারিশ করেছে। প্ল্যানে এ এলাকাকে বিনোদনের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।