স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুলের খেসারত দিচ্ছেন দুই হাজার স্টাফ নার্স। তাদের বদলি নিয়ে বিপাকে সেবা পরিদফতর। শুধু কর্তার ইচ্ছায় কর্ম, এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন ঐ মন্ত্রণালয়ের সচিব। নিয়োগ বিধির দিকে না তাকিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা হয়েছে। ২০০৩ সালে মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ঐ কর্তার ব্যক্তিগত ইচ্ছায় হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দুই হাজার স্টাফ নার্সের নিয়োগ নিয়ে। এ নিয়োগের সময়ে সচিবের ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও সেবা পরিদফতর সূত্রে বলা হয়, পরিদফতর জন্মলগ্ন থেকে অর্থাত্ ১৯৭৯ সাল থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করার পর এন্ট্রি পয়েন্টে পদের নাম ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স’ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে আসছিল। সর্বশেষ ২০১০ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নিয়োগ বিধি অনুযায়ী দুই হাজার ডিপ্লোমাধারী নার্সকে এন্ট্রি পয়েন্টে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ডিপ্লোমাধারী এন্ট্রি পয়েন্টে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসাবে ১৬ হাজার নার্সকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০০৩ সালে দুই হাজার ডিপ্লোমাধারী নার্সকে এন্ট্রি পয়েন্টে স্টাফ নার্স হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের বদলি নিয়ে সেবা পরিদফতর পড়ে যায় চরম বিপাকে। এন্ট্রি পয়েন্টে পদ হলো সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে একই পদে ডিপ্লোমাধারী নার্স দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রধান কিংবা নিজ বেতনে ঐ দুই হাজার স্টাফ নার্স কর্মরত। তারা সরকারি কর্মচারী হয়েও নিয়োগ বিধি বহির্ভূত নিয়োগ পাওয়ায় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কি কারণে ঐ সময় দুই হাজার ডিপ্লোমাধারী স্টাফ নার্স হিসাবে নিয়োগ দেয়া হলো? এর সঠিক উত্তর গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় কিংবা পরিদফতরের কর্মকর্তারা দিতে পারেননি। তবে এক কর্মকর্তা বলেন, ঐ সময়ের সচিব ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন অথবা ব্যক্তিগত কোন আক্রোশে দুই হাজার নার্সের বদলি করেছেন বলে উক্ত কর্মকর্তা জানান। ইতিপূর্বে স্টাফ নার্সের পদ পরিবর্তন করে সিনিয়র স্টাফ নার্স করার জন্য সেবা পরিদফতর থেকে কয়েক দফা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
নার্সিং পেশা চিকিত্সা সেবার অতীব জরুরি কর্মক্রমের তালিকার প্রথম। সেই পেশার মানোন্নয়ন তেমন হয়নি। আমলাদের মারপ্যাঁচে পড়ে এই অতীব জরুরি পেশায় নিয়োজিতদের পদে পদে চরম হয়রানি আর ভোগান্তি বেড়ে চলছে। বর্তমান সরকার নার্সিং পেশার মানোন্নয়নে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এন্ট্রি পয়েন্টে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদার কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হয়েছে। বিধিমালা এখনও তৈরি হয়নি। এ নিয়ে কতিপয় দুর্নীতিবাজ আমলা জটিলতা সৃষ্টি করে আসছেন। তাদের ইচ্ছার ওপর কিংবা তাদের সঙ্গে সখ্যতার কারণে অযোগ্য ও অনভিজ্ঞ নার্সিং কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে তারা ভুল করেননি। যোগ্য, অভিজ্ঞ ও উচ্চ ডিগ্রিধারী প্রচুরসংখ্যক নার্স দেশে রয়েছেন। শুধু নিয়োগ বিধিমালা না থাকায় যোগ্য নার্স বছরের পর বছর একই বেতনে পদোন্নতি ভোগ করছেন। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল রেজিস্ট্রার পদে এক অযোগ্য জুনিয়র নার্সের নিয়োগ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঐ নার্সের ছিল সখ্যতা। যার কারণে রেজিস্ট্রারের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতে ঐ নার্সের কোন সমস্যা হয়নি। অবশেষে এই রেজিস্ট্রারকে গতকাল মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার সুরাইয়া বেগম সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় দোকানের জিনিসপত্র চুরির ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়ে। তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিজ জিম্মায় তাকে ছাড়িয়ে আনেন। এ অভিযোগে গতকাল তাকে রেজিস্ট্রার পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
সেবা পরিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাসলিমা বেগম বলেন, দুই হাজার স্টাফ নার্স নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। সর্বশেষ তাদের পদ পরিবর্তন করে সিনিয়র স্টাফ নার্স করার জন্য আবারও মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
