বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য করে সংস্থাটির কথিত সরকারবিরোধী ভূমিকার সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, সিপিডি আমাদের সরকারকে অপছন্দ করে তাই তারা উঠতে-বসতে আমাদের সমালোচনা করেছে। সিপিডির একটা পরিচয় ছিল নিরপেক্ষতা, সেই নিরপেক্ষতা চলে গেছে। সিপিডি একের পর এক বোগাস রিপোর্ট দিয়েছে। ২০১১ সালে তারা বলেছে, দেশ ডুবে যাচ্ছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকার অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তাদের সব রিপোর্টই মিথ্যা। কোনো তথ্যেরই ভিত্তি নেই। সরকারকে অপদস্ত করতেই তারা এ সব তথ্য দিয়ে গেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের সাড়ে চার বছরে সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই আছে। এসবের মূল্যায়নই আমি আমার শেষ বাজেটে তুলে ধরবো। আমার শেষ বাজেটের দর্শন হচ্ছে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। গত সোমবার সিপিডি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে চলতি অর্থবছরে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে না। তাদের এ প্রজেকশন মোটেও সঠিক নয়। আমি বলছি এবার ৬ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। গত বছর আমরা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এর আগের কোন সরকারই ধারাবাহিকভাবে এই হারে প্রবৃদ্ধি দিয়ে যেতে পারেনি। তারপরও সিপিডি আমাদের সরকারের সমালোচনা করেই চলেছে। একটা নিরপেক্ষ সংস্থা এ ধরনের সমালোচনা করতেই পারে না। সে কারণেই আমি বার বার বলছি সিপিডি নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সিপিডি একটি দুষ্টচক্র তাদের কাজই সরকারের সমালোচনা করা।‘তারা বলেছে, নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা হলে অন্যান্য খাতে বরাদ্দ কমে যাবে। কিন্তু তারা এটা ভাবেনি যে, বাজেটের আকারও অনেক বাড়ছে। বাজেটের আকার বাড়লে পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখলে অন্য খাতে কোন সমস্যা হবে না। আমার খুব দুঃখ লেগেছে, আমাদের সো কলড সিভিল সোসাইটি ধারাবাহিকভাবে আমাদের সরকারকে ‘অ্যাটাক’ করে গেছে। তারা কনটিনিউয়াসলি আমাদের অ্যাটাক করেছে। তারা ইকনোমিস্ট-এর খবরকে সূত্র ধরে সরকারের সমালোচনা করেছে। কিন্তু কেউ কোনো গবেষণা করেনি। এটা আমার জন্য; আমার সরকারের জন্য খুবই দুঃখের।
