[ রা জ নী তি ]

সংসদ অধিবেশন :অর্থবছরের বাজেট, অর্ধবছরের রাজনীতি

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২১:১৩
৩ জুন, নবম জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি মূলতই সংসদের বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন এবং পাস করানোই এই অধিবেশনের মূল কাজ। সে কাজটি জাতীয় জীবনে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে বলে সংসদের এই অধিবেশনটির প্রতি সকল মহলেরই আলাদা একটি দৃষ্টি থাকে। এবারের অধিবেশনটি শুধু বাজেটের কারণেই নয়, আরো বেশকিছু কারণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, এটি বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট হলেও বাজেটটি ভাগাভাগি হবে বর্তমান ও আগামী সরকারের মধ্যে, হতে পারে নির্বাচনকালীন সরকারের মধ্যেও। সুতরাং শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন আগামী মাসের ৩ তারিখ শেষ হলেও প্রদত্ত বাজেটটি ৩টি সরকারের মেয়াদ স্পর্শ করবে—এমন বৈশিষ্ট্য কম অধিবেশনেরই ভাগ্যে ঘটতে দেখা যায়। সেদিক থেকে চলতি অধিবেশনটি সকলের কাছেই আলাদা একটি মনোযোগ পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এই অধিবেশনে নবম সংসদের দ্বিতীয় স্পিকারের সভাপতিত্ব পাচ্ছে, যা আর একটি বিরল ঘটনা। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় স্পিকার হলেন একজন নারী—যা জাতীয় জীবনের প্রথম দৃষ্টান্ত। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম নারী স্পিকার হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ সদস্যগণ বিশেষ এই দিকটির কথাও তাদের বক্তৃতায় বলছিলেন। অন্য বিষয়টি হলো এই সংসদের প্রথম স্পিকার অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ গত অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন দেশের প্রথম নারী স্পিকার। বিষয়টি সকলেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর স্পিকার হওয়া নিয়ে তখন এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। সে ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে মোটেও কোনো প্রশ্ন ছিল না। ছিল অন্য কিছু বিষয়। সেই বিতর্কের অবসান অনেক আগেই হয়ে গেছে। সম্ভবত ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁর মেধা এবং প্রজ্ঞায় সে সব অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। এই অধিবেশনে আমরা সেটিই লক্ষ্য করছি। তৃতীয়ত, এই অধিবেশনের প্রথম দিনই বিরোধী দল অংশ নিয়েছে। টানা ৮৩ দিন অনুপস্থিত থাকার পর বিরোধী দল এই অধিবেশনে যোগ দেওয়ায় সকল মহলের কাছে বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে আছে, এটি কি তাদের সদস্যপদ রক্ষার জন্যে যোগদান, নাকি তাদের আন্দোলনের কোনো নতুন কৌশল। তবে অধিবেশনের প্রথম দিনই বিরোধী দল ‘সভা-সমাবেশ না করতে দেওয়ার প্রতিবাদে’ ওয়াক আউট করেছেন। তা তারা করতেই পারেন। তবে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া প্রথম দিন কোনো বক্তব্য দেননি, তাদের ওয়াক আউটের কথা ঘোষণা করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। বিরোধী দলের উক্ত ওয়াক আউটের পর গুঞ্জন উঠেছিল যে, তারা কি আর ফিরবেন এই অধিবেশনে? অবশ্য পরক্ষণে জানানো হয়েছে যে, না বিরোধী দল অধিবেশনে না ফেরার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, তারা ফিরবেন। তাতে সকলেই আশ্বস্ত হলেন। তবে যে বিষয়টি সকলকে বেশ হতবাক করেছে তা হচ্ছে, বিএনপি এই অধিবেশনে আলোচনার জন্য নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছিল সেটি তাদের দলীয় সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা শেষে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ অবশ্য বলেছেন যে, প্রস্তাবটি সরকারকেই দিতে হবে। বিরোধী দলের ওয়াক আউট এবং মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সরকার দলীয় অভিজ্ঞ সাংসদ তোফায়েল আহমেদ তাত্ক্ষণিক দেওয়া বক্তৃতায় বলেছেন যে, সরকারি দল বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে এমন সংবাদ জানতে পেরেই বিএনপি নিজে থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আনীত তাদের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তিনি বিএনপির এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন। স্পষ্টতই বোঝা যায়, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির মধ্যে কথা ও কাজের কিছু একটা ফারাক রয়েছে, যা এই অধিবেশনের প্রথম দিনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে যে, বিএনপি বিগত দিনগুলোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে দেশে মারমুখী আন্দোলন করেছে, তারা বেশকিছু হরতালও করেছে, তাদের বেশকিছু নেতাকর্মী এ নিয়ে মাঠে নানা ঝুঁকি নিয়েছিল, অনেকেই কারাবরণ করেছে, নানা ঘটনায় কর্মীদের অনেকেই বিভিন্ন হামলায় আছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা ক’মাস তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে বলে মিডিয়ার মাধ্যমে মাঠ বেশ উত্তপ্ত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন যে, এটি সংবিধানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা না হলে আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশে অনুষ্ঠিত হবে না, দেশে আবার ১৫ ফেব্রুয়ারি (১৯৯৬) অথবা ২২ জানুয়ারির (২০০৭) মতো একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে ইত্যাদি। সরকার থেকে অবশ্য বিএনপিকে বার বারই বলা হয়েছে যে, তাদের যা কিছু বলার আছে তা যেন তারা সংসদের এই অধিবেশনে যোগ দিয়ে বলেন। জনগণের মধ্যেও সরকারের এই আহ্বানের প্রতি এক ধরনের সায় রয়েছে। সে কারণে জনগণ চাচ্ছিল বিএনপি এই অধিবেশনে যোগদান করে প্রস্তাবটি উত্থাপন করুক। বিশেষত এই অধিবেশনে বিরোধী দলের যোগদানের কথা প্রচারিত হওয়ার পর এই বিশ্বাসটি সকল মহলেই স্থান করে নিয়েছিল যে, বাজেট অধিবেশন হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দল তাদের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করুক, তাতে সরকারি দলের মনোভাব জনগণ পরিষ্কারভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। জনগণ এমন একটি ধারণা পাওয়ার আশায় ছিল। কিন্তু যখন জনগণ শুনতে পায় যে, বিএনপি তাদের দেওয়া মুলতবি প্রস্তাব নিজেরাই সংসদ অধিবেশন থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে তখন সকলেই ভীষণভাবে বিস্মিত হয়েছেন, কেন বিএনপি এমনটি করতে গেল তার কোনো সঠিক জবাব জানা গেল না, বোঝাও গেল না। এখন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আসলে কারো কাছেই খুব একটা স্পষ্ট হয়নি, বোঝাও যায়নি। সকলের কাছেই মনে হয়েছে এতে কিছু একটা আছে। এমনিতেই বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনীতিসচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বিএনপি নিজেই। যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে যে কথাই দল থেকে বলা হোক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিএনপি দ্বিচারিতা করছে। জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিকে বিএনপি প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ও নৈতিকভাবে সমর্থন প্রদান করছে বিষয়টি নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরেই নানা জিজ্ঞাসার জন্ম হয়েছে। সাধারণ মানুষ বিএনপির এমন অবস্থানকে খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। অধিকন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সহিংস কর্মকাণ্ডকে বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধিতা না করে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন করায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছে। বিএনপি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, অথচ জামায়াত-শিবিরের সহিংস কর্মকাণ্ডকে সমর্থন জানানো, গণহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বেশ বিভ্রান্তিকর। এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। একইভাবে গণজাগরণ আন্দোলন নিয়েও দলটি তারুণ্যের উত্থানকে ভিন্নভাবে দেখেছে, যা সচেতন তরুণদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে আস্তিক-নাস্তিকের ভেদাভেদ সৃষ্টি করে বিএনপি পুরো বিষয়টিকে যেভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে তাতে নাগরিক সমাজের সচেতন অংশ হতাশ হয়েছে। এর বিপরীতে দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করে দেশে নাস্তিকবিরোধী যে আন্দোলন বিস্তৃত করার চেষ্টা হয়েছে তাতে বিএনপি দেশে- বিদেশে সকল সচেতন মহলে বিরূপ সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ ৫ ও ৬ মে হেফাজতদের দিয়ে সরকার উত্খাতের যে ছকে আন্দোলন করতে চেয়েছিল তা বিএনপির রাজনীতিকে বড় ধরনের জিজ্ঞাসায় ফেলে দিয়েছে। এসব এডভাঞ্চারিজম (অভিযানবাদিতা) নিয়ে বিএনপি গত প্রায় দেড়-দুই বছর যে দোদুল্যমানতার পরিচয় দেখিয়েছে তার ফলে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুর আন্দোলনই এখন নানা গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়ে তা আবার প্রত্যাহার করা নিয়ে জনমনে বিএনপির আসল চাওয়া, আসল লক্ষ্য নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আসলে বিএনপির মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যই মানুষের কাছে অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক ঘটনাবলীকে বস্তুনিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করে যে ধারণা পাওয়া যায় তাতে মনে হয় না, আগামী নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ, বাড়াবাড়ি ও কারচুপি করার কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা করছে। সরকারের বক্তব্য কখনো বেশ স্পষ্ট, কখনো অস্পষ্ট। তবে তারা কোনো ধরনের ১৫ ফেব্রুয়ারি অথবা ২২ জানুয়ারির নির্বাচন পরিকল্পনা করছে— এমনটি বিশ্বাস করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন আর সাদেক আলী বা আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন দেশে নেই, এখন ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা আছে। আচরণবিধিও বেশ কার্যকর। সুতরাং বাংলাদেশে আগামী ১০ম কেন, পরবর্তী কোনো নির্বাচনই সরকার বা নির্বাচন কমিশন যা খুশি তা করতে পারবে না। জনগণ এখন এ ব্যাপারে সতর্ক আছে। তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে কী হতে পারে তা ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০০৬-০৭ সালের ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের অভিজ্ঞতায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সেই ভুল করবে এমনটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একাধিক বক্তৃতায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন। তিনি জেনে-শুনেই একথা বলেছেন। সুতরাং এমন বাস্তবতায় আগামী নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব আশংকার কথা কেউ কেউ বলে থাকেন তা অনুমাননির্ভর, বাস্তবভিত্তিক হওয়ার কারণ দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি বিষয়টি বুঝে এবং জানেও। তারপরও এই ইস্যুতে আন্দোলন দাঁড় করানো গেলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, বিএনপির প্রতি জনসমর্থন বাড়ানোসহ একটি সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি করা যাবে—তা পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত করবে বলে বিএনপি মনে করে। তা থেকেই বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলনের অবস্থান। বিএনপি এই সরকারের দুর্বলতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের চাইতে মোটেও কম সচেতন নয়। বিএনপির কাছে ইস্যুটি সুবিধাজনক মনে হচ্ছে, যেহেতু বেশিরভাগ মানুষই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে আগের চিন্তা-ভাবনা ও বিশ্বাসে অবস্থান করছে। বিষয়টি বিএনপির জন্য সুবিধাজনক। তাই বিষয়টিকে নিয়ে আন্দোলনকে টেনে নেওয়ার কৌশল থেকেই বিএনপি এ নিয়ে মাঠ গরম করছে, হরতাল করছে। তবে এ নিয়ে বিএনপির ভেতরের অবস্থান দোদুল্যমান। বিএনপির কাছে তারেক রহমানকে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি যখন একমাত্র এজেন্ডা হয়ে ধরা দেয় তখন সব কিছুতেই গোলমাল হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও মনে হচ্ছে তেমন প্রভাব পড়েছে। বিএনপি আগে স্থির করুক তার প্রধান এজেন্ডা কোনটি— তারেক রহমান, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষালম্বন, নাকি আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা, নাকি অন্যকিছু। সেটি করা গেলে সম্মুখে একভাবে চলা যাবে, নতুবা পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে। এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থানের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সময় দ্রুতই কমে আসছে। সকলে আশা করছে বিএনপি দ্রুত তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে। তাহলেই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।  লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক