বন্দরের জেটিগুলোতে জেনারেল কার্গো ও কন্টেইনার উঠানো-নামানোর কাজ আবারও ১২টি বার্থ অপারেটর সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে বলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। কঠিন শর্তের কারণে লাইসেন্সধারী ৪৪টি স্টিভিডোর ও বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১২টি প্রতিষ্ঠান সমপ্রতি কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং দরপত্রে অংশগ্রহণ করায় ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এ দরপত্র বাতিল করে সকল হ্যান্ডলিং ঠিকাদারের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানের সহযোগিতা কামনা করেন। বন্দরে বার্থ অপারেটর নিয়োগের সামপ্রতিক দরপত্র সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা বলেন, কঠিন শর্তসম্বলিত টেন্ডার আহ্বান করে হ্যান্ডলিং রেট অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে আমদানিতে যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে তার বোঝা চাপবে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর। পুনরায় দরপত্র আহ্বানের ব্যাপারে নৌ-মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এমএ লতিফ এমপি। চিঠিতে তিনি শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
গতকাল বুধবার প্রেরিত এ চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ১২ টি জেটির জেনারেল কার্গো এবং কন্টেইনার উঠানো নামানোর কাজ আবারও ঐ ১২ টি বার্থ অপারেটর সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়ার হীন চক্রান্ত চলছে। এতে এমনভাবে প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কোন উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না হয় এবং কেবল ১২ জনের সিন্ডিকেটের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। বন্দরের লাইসেন্সধারী অর্ধ শতাব্দীর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪ জন স্টিভিডোর/বার্থ অপারেটরকে ঠেকিয়ে ওয়ানইলেভেন সময়কালীন সরকার কর্তৃক নিয়োজিত ১২ জন ঠিকাদারের সিন্ডিকেটকে কাজ দেয়া নিশ্চিত করার জন্য নৌ-মন্ত্রণালয় ও বন্দরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা টেন্ডার ডকুমেন্টস-এ শর্তাবলী আরোপ করেছে। তিনি অবিলম্বে বন্দরের ১২ জেটিতে পণ্য ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এর জন্য আহূত দরপত্র বাতিল করে তালিকাভুক্ত ৭/৮ বছরের পণ্য হ্যান্ডলিং-এর অভিজ্ঞতার স্থলে বিগত ২০ বছরের পণ্য হ্যান্ডলিং-এর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সব হ্যান্ডলিং ঠিকাদার যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে সেভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান।
