হঠাত্ শুরু হওয়া গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে আসা লোডশেডিং অতিষ্ঠ করে তুলেছে জনজীবন। হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে মানুষ। সর্বোচ্চ গরমের সময় প্রতিবছর সবচে বেশি সংখ্যক বিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ থাকে। এ কারণে ঘাটতিও থাকে বেশি। বর্তমানে ৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদুত্ কেন্দ্র থাকলেও প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার কেন্দ্র বন্ধ আছে। ফলে হঠাত্ অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে মানুষ।
বিদ্যুত্ না থাকার কারণে শিল্প, বাণিজ্যি, আবাসিক সকল গ্রাহক ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। রাজধানী ঢাকার চেয়ে মফস্বল শহরগুলোতে লোডশেডিং হয় বেশি। এখন দিনে-রাতে সমানতালে বিদ্যুত্ আসা-যাওয়া শুরু করেছে। অনেক এলাকায় সকালে এক ঘণ্টা, দুপুরে এক ঘণ্টা, বিকালে এক ঘণ্টা, সন্ধ্যার পরে একঘণ্টা আবার রাতে কোন এক সময় এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। আবার কোন কোন এলাকায় পুরো একঘণ্টা বন্ধ না রেখে ঘন ঘন লোডশেডিং করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড-এর কর্মকর্তারা বলছেন, লোডশেডিং একটু করতে হচ্ছে। কারণ চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে চাহিদা বাড়ে; কিন্তু চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে উত্পাদন বাড়ানো যায়নি। ফলে ঘাটতি থেকে গেছে।
রাজধানির উত্তরার বাসিন্দা রেহেনা সুলতানা জানান, বিকালে অফিস থেকে বাসায় ফিরে বাচ্চাদের মুখে শুনি দুপুরে কয়েকবার লোডশেডিং হয়েছে, ফলে গরমে খুব কষ্ট পেয়েছে বাচ্চারা। বিকালের পর যেনো লোডশেডিং আরো বেড়ে যায়। সন্ধ্যায় একই অবস্থা। বনানীর এক অফিস কর্মকর্তা জানান, বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে অন্তত তিনবার বিদ্যুত্ ছিল না। বার বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় অফিস করারই দায় হয়ে পড়েছে। এসি এবং আইপিএস থাকার পরও শান্তি পাচ্ছেন না। মধুবাগের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, দিনের বেলার তুলনায় সন্ধ্যায় লোডশেডিং-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। এমনকি রাতের বেলায়ও লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই রাস্তায় বের হয়ে আসছে অথবা বাড়ির ছাদে গিয়ে বসছেন। মানিকনগরের বাসিন্দা শেফালী হোসেন জানান, গরমের মধ্যে এমনিতেই বাচ্চাদের কষ্ট হচ্ছে। তার উপর এই লোডশেডিং-এর কারণে কষ্টটা আরো বাড়ছে।
