লাশের ওপর বসে বাংলা সিনেমা দেখেন শফিক

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৩, ২২:৪০
আশুলিয়ার হোটেল ব্যবসায়ী চাঁন মিয়াকে জমি ক্রয়ের মধ্যস্থতা নিয়ে ইসমাইলের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইসমাইল নিজেই। হত্যাকাণ্ডে তার সহযোগী ছিল ভাড়াটে খুনি সেলিম হায়দার ও নূরুজ্জামান ব্যাপারী ওরফে শফিক। গত ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর মগবাজারের হোটেল আল-আকসায় জমি কেনার কথা বলে ডেকে আনা হয় চাঁন মিয়াকে। তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করতে দেয়া হয়। জুস খেয়েই চাঁন মিয়া ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তার মাথার ওপর বালিশ রাখা হয়। এর আগে রুমে টেলিভিশন ছেড়ে শব্দ বাড়িয়ে দেয়া হয়। চাঁন মিয়ার বালিশের ওপর উঠে বসেন ঘাতক শফিক। বালিশের ওপর বসে পুরো একটি বাংলা সিনেমা দেখেন তিনি। প্রায় ২ ঘন্টা সিনেমা দেখে সেলিম বালিশ থেকে উঠেন। নিশ্চিত হন চাঁন মিয়া মারা গেছেন। এর আগে কক্ষ থেকে চলে যান ইসমাইল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ইসমাইল, কিলার সেলিম হায়দার ও নূরুজ্জামান ব্যাপারী ওরফে শফিককে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ইসমাইল প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হলে তার বাম পা ও ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। হামলায় মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেছে ইসমাইলের। আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকার বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় বেঁচে আছেন তিনি। এ কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এই ঘটনায় ইসমাইলকে শ্যোন এ্যারেস্ট দেখিয়েছে। সেলিম হায়দার ও নূরুজ্জামান ব্যাপারী ওরফে শফিক গ্রেফতার হওয়ার পর গত সোমবার আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। ইসমাইল আশুলিয়ার কিলার শফিককে নিয়ে চাঁন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। কাজটি করতে পারলে শফিককে ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় ইসমাইল। শফিক তার কিলার গ্রুপের আরেক সহযোগী সেলিমকে ঘটনাটি জানায়। চাঁন মিয়াকে হত্যার পর সেলিম ও শফিক হোটেল কক্ষের বাথরুমের পানির ট্যাপের ৩টি মুখ ও ঝরনা ছেড়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চলে যায়। পরে তারা চাঁন মিয়ার মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী ডলির কাছে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ডলি স্বামীর মুক্তিপণের জন্য কয়েকদফায় বি-ক্যাশ ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেয়। ঘটনার ৫ দিন তালাবদ্ধ থাকায় হোটেল কর্মচারীদের সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময়ে হোটেল কর্মচারীরা থানায় খবর দিলে থানা পুলিশ হোটেল রুম থেকে চাঁন মিয়ার লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাটির তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোখলেছুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত শফিক ও সেলিম ঠান্ডা মাথার ভয়ঙ্কর খুনি। তারা আবাসিক হোটেলে খুন করে এবং হোটেল কক্ষের বাথরুমের জিনিসপত্র চুরি করে।