সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বস্তিবাসীদের ঘরে ঘরে এখন উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। বস্তির গৃহবধূ থেকে শুরু করে পুরুষ এবং কিশোর-কিশোরীরা এখন আর কাজের জন্য নগরীতে এসে ধরনা দেয় না। তারা এখন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাকে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম হিসাবে ধরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এজন্য তারা প্রত্যেক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর নিকট থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা করে মজুরী পাচ্ছেন। নির্বাচন উপলক্ষে এক একটি পরিবারের প্রতিদিন গড়ে ৫/৬শ’ টাকা করে আয় হয় বলে বস্তির একাধিক বাসিন্দা স্বীকার করেন।
নগরীর ২৭টি বস্তির দৃশ্য প্রায় একই রকম। বস্তির ভোট নিশ্চিত করতে বস্তিতেই কর্মী বাহিনী তৈরি করে চলছে প্রচার-প্রচারণা। বস্তিবাসীদের ভোট পেতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন প্রার্থীরা। কীর্তনখোলা নদীর পাড় সংলগ্ন নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় বহু পূর্বে জেগে ওঠে চর। সেখানে গড়ে উঠেছে পলাশপুর নামে ১৪টি বস্তি। প্রতিটি বস্তিতে ৩/৪ শতাধিক ছোট-বড় ঘর রয়েছে। একইভাবে কীর্তনখোলা নদীর একটি অংশে জেগে ওঠা চরে গড়ে উঠেছে রসুলপুর ও মোহম্মদপুর বস্তি। এ দু’টি বস্তিতে বসবাস করেন শতাধিক পরিবার। একইভাবে পোর্ট রোডস্থ কলাপট্টি বস্তি, কেডিসি সংলগ্ন বালুর মাঠ বস্তি, স্টেডিয়াম বস্তি, ভাটারখাল বস্তি, রূপাতলী বস্তিসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় কমপক্ষে ২৭টি বস্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে জানা যায়, ঐ সকল বস্তিতে ৬৫/৭০ হাজার মানুষ রয়েছে। এর মধ্যে ভোটার প্রায় ৪০ হাজার। দারিদ্র্যপীড়িত এসব বস্তিতে এখন নির্বাচনী উত্সবই চলছে। যেন ঈদের মতই আনন্দ বয়ে যাচ্ছে ঘরে-ঘরে। সারা বছর কেউ কোন খোঁজ-খবর না নিলেও নির্বাচন এলেই বস্তিবাসীদের কদর বেড়ে যায়। মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বস্তিবাসীদের নিকট থেকে ভোট আদায় এবং তাদেরকে কর্মী বানিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রচার-প্রচারণার কাজে লাগায়। সকাল ৭টা বাজার সাথে সাথে নগরীর ২৭টি বস্তির পুরুষ, মহিলা ও তাদের ছেয়েমেয়েরা মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের লিফলেট হাতে বেরিয়ে পড়েন। এজন্য আগের রাতে ঐ সকল প্রার্থীর প্রচারণা অফিস থেকে এলাকা ভাগ করে তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এমনকি ভোটারদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে তাও শিখিয়ে দেয়া হয়। রাতে ছোটখাটো এ রকম প্রশিক্ষণ বা তালিম নিয়েই ঐ নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাসাবাড়িতে প্রচার-প্রচারণা চালান। দিন শেষে প্রচারণা অফিসে গিয়ে মজুরী নিয়ে ফিরে যান নিজ গন্তব্যে। বস্তির একাধিক বাসিন্দা জানান, তারা যার পক্ষে কাজ করছেন তাকেই ভোট দিবেন এমন কথা নেই। যে প্রার্থী বস্তিবাসীর ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করবেন তারা তাকেই ভোট দেবেন।
যেকোন নির্বাচনে নগরীর বস্তির বিশাল ভোট ব্যাংক একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রত্যেক নির্বাচনের মতই এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন, আহসান হাবিব কামাল ও মাহমুদুল হক খান মামুনসহ স্ব-স্ব এলাকার কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা বস্তিগুলোর প্রতি বিশেষ নজর রাখছেন। প্রতিদিন একটিবারের জন্য হলেও বস্তিতে গিয়ে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করছেন।
‘কামাল নগর ভবনের স্টাফদের
বেতন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন’
গত বুধবার নগরীর ৬ ও ১৩নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে মেয়র পদপ্রার্থী শওকত হোসেন হিরন প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের সমালোচনা করে বলেন, তার সময় নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিলো কম। সে সময়ই তিনি তাদের বেতন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তখন বেতনের দাবিতে তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছিল। আর আমার ৪ বছর ৭ মাসে তিনগুণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিতে সক্ষম হয়েছি।
