উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়ন করা বিরাট চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২২:৩৬
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও জাতীয় পার্টি-জাপা। এই তিনটি দলের পক্ষে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে তিনটি সরকারকে। প্রথমত:বর্তমান সরকার, দ্বিতীয়ত:নির্বাচনকালীন সরকার এবং তৃতীয়ত: পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে। এই বিশাল ঘাটতির বাজেট বাস্তবায়ন তিন সরকারের জন্যই বিরাট চ্যালেঞ্জ। তিনটি দলই প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘ভোটারতুষ্টির বাজেট’ আখ্যায়িত করে বলেছে, এটি আগামী জাতীয় নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত একটি ডকুমেন্ট। জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী ও আগামী জাতীয় নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত একটি ডকুমেন্ট। বৈশ্বিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনীতির ক্ষেত্রে দৃঢ় সংস্কারমূলক পদক্ষেপের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ৬.৩ হারের প্রবৃদ্ধি অর্জন, ১৫ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি, রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি শতকরা ৭ ভাগের মধ্যে সীমিত রাখা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপচয় বন্ধ, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও ভালো হত। তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য ঘাটতি বাজেট কোন নতুন বিষয় নয়। এই ঘাটতি পূরণে সরকারের আকার ছোট করা, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপচয় রোধ ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। ৭.২ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনে এর কোন বিকল্প নেই। পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখাকে আমরা স্বাগত জানাই। অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক সূত্র, যেখান থেকেই হোক, পদ্মা সেতুর জন্য এই বরাদ্দের জোগান দিয়ে নির্মাণ কাজ অবশ্যই দ্রুত শুরু করতে হবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে বিনিয়োগ বা ব্যবসা বান্ধব বলতে পারি। পুঁজিবাজার চাঙ্গা করার জন্য বাজেটে গৃহীত প্রস্তাবসমূহ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অতীতে আমরা দেখেছি, বাজেট প্রস্তাবনার সময়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, পরবর্তীতে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব হয় না। বাজেট এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরবর্তীকালে ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়। আমরা আশা করবো, এ বিষয়ে সরকার সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এক বিবৃতিতে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে লুটপাটের ধারা আরও জোরদারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ধনীকে আরও ধনী এবং গরিবকে আরও গরিব করা, দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, ধন বৈষম্য ও শ্রেণী বৈষম্য বৃদ্ধি, সামাজিক অস্থিরতা ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি হবে এই বাজেটের ফলাফল। তাছাড়া এই বাজেট দেশের অর্থনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরতা বৃদ্ধি করে জাতির অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিমন্ডলে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও নাজুকতা বাড়িয়ে তুলবে। তারা বলেন, বাজেটে কিছু চটকদার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনের পরিবর্তে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদেরকে মহাজোটের পক্ষে ভোট দিতে প্রলুব্ধ করবে। এই বাজেট প্রত্যাহার করে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় সমাজতন্ত্র, দরিদ্র জনগণের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা, প্রগতিবাদিতা ও আত্মনির্ভরশীলতায় প্রগতিশীল বাজেট প্রণয়নের জন্য তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান। জাতীয় পার্টি-জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ইত্তেফাকের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট যতনা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য, তারচেয়ে বেশি বর্তমান সরকারের আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার লক্ষ্যে প্রণীত। এটিকে আমি উচ্চাভিলাষী কিংবা অবাস্তব বা বাস্তবমুখী না বলে নির্বাচনবান্ধব বাজেট বলব। তিনটি সরকারের পক্ষে এই বাজেট বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গতবারও নির্ধারিত মূল্যস্ফীতি ধরে রাখতে পারেনি, এবারও পারবে বলে মনে হয় না। এবারের বাজেটে জিডিপি’র যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তাও কল্পনাপ্রসূত।