সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৩, ২২:৪৩
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ছে। বাজেটে এ খাতের জন্য ২৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সরকার মনে করছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী দারিদ্র্য নিরসনে একটি কার্যকর হাতিয়ার, যা সরাসরি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এজন্য আগামী বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতের মূল বৈশিষ্ট্য হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও আঞ্চলিক সমতা বিধানের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এ অংশকে অর্থনীতির মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করা। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ সন্তানের পুষ্টির উদ্দেশ্যে এক লাখ এক হাজার ২০০ জনকে মাসিক ৩৫০ টাকা হারে দেয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকার গার্মেন্টস মহিলা শ্রমিক এবং ৬১ জেলা সদরে কর্মজীবী মোট ৭৭ হাজার ৬২৫ জন কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাকে মাসিক ৩৫০ টাকা হারে বর্তমানে দেয়া হচ্ছে। আগামী বাজেটে ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তিনি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে নয় লাখ ২০ হাজার বয়স্কভাতাভোগীকে মাথাপিছু ৩০০ টাকা করে ৮৯১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল। আগামী অর্থবছরের জন্য তা ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরে ৯ লাখ ২০ হাজার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলার জন্য ৩০০ টাকা হারে ভাতা দেয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য তা ১০ ভাগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের মতো সাড়ে সাত লাখ গ্রামীণ দুঃস্থ ও দরিদ্র মহিলাকে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় মাসে ৩০ কেজি চাল বা ২৪ কেজি গম দেয়াকে অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। এদিকে হিজড়া, দলিত ও বেদে সম্প্রদায়কে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে এসব সম্প্রদায়ভুক্ত শিশুদের উপবৃত্তি প্রদান, প্রাপ্তবয়স্কদের দক্ষতার উন্নয়ন ও তাদের আয় বাড়ানোর কাজে সম্পৃক্ত করা এবং প্রৌঢ়, অক্ষম ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য আগামী বাজেটে এ খাতে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অতি দরিদ্র কর্মসংস্থানের জন্য বাজেট বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর ও পারিবারিক অবসরভাতা, অবাঙালি পুনর্বাসন, বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, এতিম শিশুকল্যাণ ভাতা, অটিজম রিসোর্স সেন্টার ও প্রতিবন্ধী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।