আকাশ পথে তরুণদের নতুন যাত্রা

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ১৮:১৫
এসএসসি, এইচএসসির পর আমাদের শিক্ষার্থীদের একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে উচ্চশিক্ষা অর্জন। এরপর সবাই একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে চান। তবে বাস্তবতা হলো উচ্চশিক্ষার পর বেশিরভাগ মানুষই তাদের কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার গড়তে পারেন না। অথচ একটু চোখ-কান খোলা রেখে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। তাই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে পড়াশোনার বিষয় নির্বাচনে সুবিবেচক হতে হবে। আর এর ফলে যে সাফল্য সহজে করায়ত্ত হয় তারই কয়েকটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হলো—নেপালের মেয়ে সিবানি খাদকা একদিন প্লেনে চড়ে নেপাল থেকে জার্মানি যাচ্ছিলেন। তখন বিমানবালাদের দেখে তার মনে ইচ্ছা জাগে একদিন এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়বেন। এর পর ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশের ক্যাটেকে ০২/০৮ ব্যাচে ভর্তি হন। এখান থেকে পাস করার পর তিনি প্রথমে বুগ্ধ এয়ারে কাজ শুরু করেন। সেখানে ৬ মাস কাজ করার পর নক এয়ারে জয়েন করে। বর্তমানে তিনি সাড়ে তিন হাজার ডলার বেতনে চাকরি করছেন। মাঝেমধ্যেই শিবানি খাদকা তার বর্তমান ক্যারিয়ারের জন্য ক্যাটেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যোগাযোগ করেন। শাহানা আক্তার ও মিনাতুল জান্নাত উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে একই কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট শেষ করে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস অফিসার হিসেবে ঢাকা এয়ারপোর্টে যোগ দেন। তিনি জানান, অ্যাভিয়েশনে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা নিয়েই এখানে ভর্তি হন এবং কোর্স শেষে দ্রুত চাকরি পেয়ে যান। অবশ্য প্রথম দিকে এ বিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোথায় পাওয়া যাবে এ নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। এ রকমই আরেকটি উদাহরণ আসিফ। ছোট থেকেই আসিফের ইচ্ছা ছিল অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। ২০০৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি একই কলেজে এইচএনডি ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বর্তমানে আমেরিকার বিখ্যাত উইশিটা ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। কলেজ থেকেই তাকে উইশিটা ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার জন্য পাঠানো হয়। একইভাবে বলা যায় রিয়াদের কথা। দুই বছর আগে তিনি ‘এ’ লেভেল শেষ করে একই বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তার মতে এটি সামাজিকভাবে যথেষ্ট সম্মানজনক একটি পেশা। এতে শুরুতেই বেতন হয় চার লাখ টাকার কাছাকাছি এবং ক্রমে তা বাড়তে থাকে। আবার ইচ্ছা করলে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। গত বছর তিনি ইংল্যান্ডের ভিসা পেয়েছেন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় পার্ট সম্পন্ন করতে। এভাবেই অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী এ দেশে এসে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন। যেমন শক্তি এখন আমেরিকায়, উমেশ পোল্যান্ডে, এস থাপা ও সিফাত ফিলিপাইনে, মানিল ও সেপি ইন্ডিয়াতে, ডিভাস ও আচারিয়া রাশিয়াতে, ফাইজিন ইংল্যান্ডে রয়েছেন। প্রথম ব্যাচের ১২ জনের ৮ জন বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে কাজ করছেন আর বাকি ৪ জনের ২ জন আমেরিকায় এবং ২ জন ইংল্যান্ডে অ্যারোস্পেসে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ি-১৪, উত্তরা, ফোন :০১৯৩৭১৮২৪৭০। এক্ষেত্রে এদেশের শিক্ষার্থীরাও বেশ সফল, যেমন—নন্দিতা কাতার এয়ারওয়েজে; রাশেদ, তাসলিমা, জারা হকসহ অনেকেই ফ্লাইং একাডেমিতে; রাফসান রেইনবো ফ্লাইং একাডেমীতে; মোজাম্মেল গ্ল্যামারগনে; সাওসান কানাডাতে; আসিফ আমেরিকাতে; এডিসন ইকুয়েডরে অবস্থান করছেন। কলেজটির প্রথম দ্বিতীয় ব্যাচের কয়েকশ শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে চাকরি বা ইন্টার্নি করছেন। আর তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যাচ্ছেন দু’এক মাস পরই।