সন্তানের বন্ধু হবেন যেভাবে

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ১৮:২০
এখনকার ছেলেমেয়েদের সাথে আগের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বিস্তর ব্যবধান। এই প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলা যায় তাদের বন্ধুত্ব অর্জনের মাধ্যমে। সন্তানের সাথে বন্ধু হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া সমবয়সী ছেলেমেয়েরা মুহূর্তের মধ্যেই একজন আরেকজনের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু একজন বাবা কিংবা মায়ের পক্ষে আপনা সন্তানের সাথে এই বন্ধুত্ব চাইলেই সেভাবে করতে পারবেন না। কারণ বাবা-মায়ের সাথে যে বন্ধুত্ব তার ধরন স্বভাবতই বন্ধুর সাথে বন্ধুত্বের মতো হবে না এবং কিছু মৌলিক পার্থক্য থাকবেই, আর এটাই বাস্তবতা। তাই বলে এমনটি সঠিক নয় যে, সন্তানের সাথে আপনার বন্ধুত্ব হবে না, বন্ধুত্ব অবশ্যই হবে, তবে তার ধরন, এটি গড়ার প্রক্রিয়া হবে কিছুটা ভিন্নভাবে এবং ভিন্ন সময়ে। যদিও এর অনেকটাই নির্ভর করে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর। ‘বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই বা যেকোনো বয়সেই বন্ধুত্ব গড়া যায়’ প্রচলিত এই কথাটি সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব গড়ার প্রশ্নে চলবে না। কারণ সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব পাতাতে হবে শিশুকাল থেকেই। প্রফেশনের কারণে আপনি সন্তানের নিদ্রারত অবস্থায় অফিসে যাবেন, এবং রাতে আপনি যখন বাড়ি ফিরেন, ততক্ষণে সন্তান আপনার নিদ্রামগ্ন। এমতাবস্থা এক দুদিনের নয়, প্রায় সারা জীবনের। এমনকি অধিকাংশ ছুটির দিনেও আপনি সময় কাটাচ্ছেন অফিসিয়াল মেহমানদের সাথে, পার্টিতে। ফলে মাসের এক-আধটা ছুটিতে তাও অল্প সময়ের জন্য সন্তানের সাথে যেটুকু কাটাচ্ছেন, তাতে সন্তানের কাছে আপনি ক্ষণিকের অতিথির মতো। ফলে এই পরিস্থিতিতে সন্তানের সাথে বন্ধুত্বের কথা না বলে বরং বলা ভালো ‘সন্তানের সাথে দূরত্ব কমাবেন কীভাবে’, সেটা। আর যাদের বাবা-মা দুজনই চাকরি বা ব্যবসা করেন, তাদের সন্তানদের কী অবস্থা সেই নির্মম আলোচনায় এখন যাব না। বলছিলাম সন্তানের বন্ধু হবেন যেভাবে। আগেই বলেছি সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব হতে হবে তার শিশু বেলাতেই, অর্থাত্ যত ব্যস্ততাই থাকুক সন্তান নিদ্রায় যাওয়ার আগেই আপনাকে ঘরে ফিরতে হবে এবং যতটা সম্ভব তার পাশে থাকতে হবে। অনেকেই হয়তো বলবেন, যে শিশু কথা বলতে পারে না তার পাশে বসে বা সময় কাটিয়ে কী হবে! পাশে বসে আপনি তাকে দেখবেন, সে আপনাকে দেখবে এবং তার কৌতূহলী দৃষ্টির সাথে স্নেহ সোহাগ মাখা কথা বলবেন, ওই সময়ে এটাই বন্ধুত্ব। এভাবেই সে আপনাকে চিনবে ও জানবে এবং বড় হতে হতে সম্পর্ক গড়াবে অটুট বন্ধুত্বের দিকে। যেসব পরিবারে এই বন্ধন গড়ে উঠেছে, সেসব ঘরে লক্ষ করলে দেখবেন, বাবা-মা সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দেয়, এটা আমার বন্ধু বাবা অথবা সন্তান বলছে, এটা আমার আব্বু বন্ধু বা মা বন্ধু। কিন্তু বড় হতে হতে বয়সের উত্তাল ঢেউয়ের বিপরীতে বাবা অথবা মামা বন্ধুর এই অটুট/মধুর সম্পর্ক অধিকাংশই আর অটুট থাকে না, ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ছিন্ন হতে হতেও যে বন্ধনগুলো অটুট থাকে তার নেপথ্যে রয়েছে বাবা-মায়ের পারিবারিক পারস্পরিক সম্পর্ক-সম্মান, বিশ্বাস এবং ধৈর্য সহিষ্ণুতা, ধর্মীয় আনুগত্য ইত্যাদি, যা সন্তান অনুসরণ করে ও শিখে। বিশেষ করে স্পর্শ কাতর বয়সে অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে বুঝিয়ে কথা বলা ও শাসন করাসহ বিভিন্ন কিছু কাজ করে বন্ধন অটুট রাখার পেছনে। সব শেষ বলব, ছেলেমেয়েদের পছন্দ অপছন্দ জানার চেষ্টা করবেন এবং পড়ালেখার পাশাপাশি তারা অবসরটা যাতে ঘরেই কিংবা বাইরে নিকটাত্মীয়দের সাথে বা নিকটেই ভালো বন্ধুদের সাথে আনন্দ করে কাটাতে পারে (ভালো হয় কোন খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করলে) সেই সুযোগ করে দিন। বিশেষকরে সন্তানের আনন্দ-বেদনার অংশীদার আপনাকে হতে হবে।