শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২১:০৩
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করছে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মহান যে প্রত্যয় নিয়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই স্বাধীনতার সুখ আজও বাংলার মানুষ পায়নি। সরকারি ও বিরোধী দলের রোষানলে বাংলাদেশ বর্তমানে এক চরম ক্রান্তিকালে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক নেতাদের হাতে সাধারণ জনগণ জিম্মি হয়ে আছে। ক্ষমতায় যেতে না পারলেই রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল ডাকে। কিন্তু হরতালে দেশ ও জাতির কতটুকু ক্ষতি হয় তা তারা উপলব্ধি করে না। দেশের অর্থনৈতিক কুফল-সুফল নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। তারা শুধু নিজেদের ক্ষমতার জন্য জনগণকে ব্যবহার করে। দক্ষ জনগণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করছে। তাই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা না করা হলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ জনগণ। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণের প্রত্যাশা, দলমত নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা ভাবুন। অন্যথায় জনগণ আপনাদের কখনো ক্ষমা করবে না। মো. আব্দুর রহমান অনুষদ : ভেটেরিনারি সায়েন্স ১৩ লেভেল : ০১ সেমিস্টার : ০১ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, আমাদের দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন একটা হয়নি। এর মূল কারণ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতা। যারা ক্ষমতায় যাবার জন্য সাধারণ মানুষের দ্বারপ্রান্তে নানান কৌশলে ঘায়েল করে আর ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের কথা ভুলে গিয়ে একজন আরেকজনের সাথে পাল্লা দিয়ে পকেট ভারী করার চেষ্টা করে। আমরা সাধারণ মানুষ একটু ভালোভাবে বিবেচনা করলে দেখতে পাবো যে, প্রতিহিংসার কারণে রাজনৈতিক দলগুলো দেশের বিভিন্ন সম্পদ নষ্ট করে। এগুলো দমন করার জন্য দেশে আইন করা হচ্ছে ঠিকই; কিন্তু সেই আইনের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। আর এ সকল আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেই আজ রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনে দুর্ঘটনা ঘটছে আর হাজার হাজার নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে। যার ফলে বিপর্যস্ত হচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনীতি, বিপর্যস্ত হচ্ছে আমাদের দেশের পোশাক শিল্প খাত। এসব ঘটনা ঘটার পরেও কথা থাকে যে, দেশের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অস্থিরতার অবসান ঘটছে না। দেশের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সচল রাখতে হলে দলমত নির্বিশেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের প্রতিনিধি তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে যথাসময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। মো. খায়রুল হাসান অনার্স ৩য় বর্ষ, আইন বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে বাংলাদেশের রাজনীতির দিকে তাকালে অর্থনীতির উন্নতির কথা চিন্তা করা যায় না। এ দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের দেশে বিরাজমান; কিন্তু এগুলোর সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বহীনতার কারণে আজ আমাদের দেশ পিছিয়ে আছে। কি নেই আমাদের দেশে; কয়লা, গ্যাস, তেল খনিজসম্পদ আমাদের আছে। নেই শুধু তদারকি। দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এতে করে রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ক্ষমতায় কিভাবে যাবে সেই চিন্তা। ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল ক্ষমতা টিকানোর জন্য যে চিন্তা করে এই চিন্তা যদি অর্থনীতি কিভাবে ব্যবহার করলে সঠিক হবে, উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা যাবে এই চিন্তা করলে আজ দেশ হতো অর্থনীতিতে ভরপুর। আমাদের অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, একটা পণ্যের যে পরিমাণ চাহিদা আছে সে পরিমাণ উত্পাদন করা প্রয়োজন, তা করা সম্ভব চাহিদার সাথে যোগানের কোন অভাব নেই। কিন্তু বাধা শুধু হরতাল, ভাংচুর, নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। নিরাপত্তার অভাবে আন্তর্জাতিক বাজার আজ হুমকির মুখে। বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। আজ যদি বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য বা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন না হয় তাহলে অর্থনীতিতে যে অবস্থানে আছে সে অবস্থান থেকে আরো নিচে নেমে আসবে। তাই আমি প্রধান দুই দলকে বলবো, আপনারা এমন একটা সিদ্ধান্ত নিবেন যে সিদ্ধান্ত ৮০ ভাগ লোক সাপোর্ট করে। মো. দেলোয়ার হোসাইন সরকারি তিতুমীর কলেজ অর্থনীতি শেষবর্ষ, মহাখালী, ঢাকা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে অর্থনীতি একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত একথা আমরা সবাই জানি। একটি দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া বিশ্বের নিকট পরিচিত হতে পারে না। বর্তমানে বিশ্বে যারা অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে তারা একটি শান্তিপ্রিয় জাতি বা দেশ। তাদের দেশে নেই কোন সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কথা বলা যায়। ভারতে বন্ধ্ হলে আমাদের মতো এত ক্ষয়ক্ষতি হয় না। চীন বিশ্বের অর্থনীতির দিক থেকে ২য় অবস্থানে আছে। সে দেশে নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণভাবে। ক্ষমতা হস্তান্তর হয় শান্তিপূর্ণ উপায়ে। একটি বড় ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। USA শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে থাকে। ফলে তারা বিশ্বের ১ম অবস্থানে অর্থনৈতিক দিক থেকে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির অনেক মাধ্যম আছে। অন্যতম মাধ্যম হলো পোশাক শিল্প। অথচ আজ নির্বাচনী ইস্যুতে সপ্তাহে প্রায় দিনই হরতাল, ভাংচুড়, অরাজকতা লেগেই থাকে। যার ফলে শিল্প-কারখানা এবং পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে মালিকরা বাধ্য হন। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে। BGME হরতাল বন্ধের জন্য আলোচনার কথা বললেও কোন ফল পায়নি। সরকারি দল যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচনের অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে হরতালের মতো সংঘাত বন্ধ করতে পারে তাহলে দেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নতি হতো। মো. মনোয়ারুল ইসলাম মাস্টার্স শেষপর্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ সরকারি আযীযুল হক কলেজ, বগুড়া