অব্যবস্থাপনায় কৃষিবাজার

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২১:২০
কৃষিপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যর্থতার কারণে পণ্যের সঠিক দাম পাচ্ছে না কৃষক। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফা লাভের খেসারত দিতে হচ্ছে ক্রেতা সাধারণকে। হারভাঙা শ্রম আর অর্থ খরচ করে কৃষক পণ্য উত্পাদন করে। সেই পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কৃষকের উত্পাদন খরচ উঠে আসে না। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে সাধারণ ক্রেতাদের খুচরা বাজারে সেইসব পণ্য কিনতে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষক পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম পাঁচ থেকে আট গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সম্প্রতি কৃষিপণ্যের বাজার ঘুরে এমন সব তথ্য পাওয়া যায়। এদেশে মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিজাত দ্রব্য খুচরা বাজারে আসে বেশ ক’টি হাত ঘুরে। এসব ক্ষেত্রে কৃষক এবং ক্রেতার মাঝখানে যারা আছে তারাই অধিক মুনাফা লুটে নেয়। এসব ক্ষেত্রে ঠকছে কৃষক। অধিক মূল্য দিচ্ছে খুচরা ক্রেতাসাধারণ। রাজধানীতে বিক্রি হওয়া ডিমের বেশিরভাগ আসে গাজীপুর, শ্রীপুর, বরমী থেকে। খামার পর্যায়ে ডিমের উত্পাদক প্রতিটি ডিমের মূল্য পায় ৬ টাকা বা তার কিছু কমবেশি। যা তার উত্পাদন খরচের কাছাকাছি। কিন্তু সেই ডিম মাত্র ৩০ কিংবা ৬০ কিলোমিটার বয়ে এনে ঢাকায় খুচরা বিক্রি হয় প্রতিটি ১০ টাকা দরে। এর মধ্যে পাইকার, আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতা এই তিনজনের একটি সিন্ডিকেট খুঁজে পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী শ্রীপুর বর্মী কিংবা গাজীপুর থেকে ডিম পরিবহনে তাদের ব্যয় হয় ডিম প্রতি ১০ থেকে ১৫ পয়সা। উত্পাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম বেড়ে যায় ৪ টাকা। আলু বেশি উত্পাদন হয় মুন্সিগঞ্জ ও বগুড়ায়। উত্পাদক পর্যায়ে কৃষকের বিক্রি মূল্য বাজারভেদে ৪-৫ টাকা প্রতি কেজি। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৯-১১ টাকা। খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ১৫-২০ টাকা। এক্ষেত্রে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজির দাম বাড়ে ১১-১৬ টাকা। তুলনামূলক পেঁয়াজ বেশি উত্পাদন হয় রাজশাহী, পাবনা ও দুর্গাপুরে। এসব জায়গায় কৃষক পর্যায়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজের বিক্রি মূল্য বাজারভেদে ১৫-১৮ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ২০-২২ টাকা, খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ৩০-৩২ টাকা। পরিবহন ব্যয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে প্রতি কেজি দুই থেকে আড়াই টাকা। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজির দাম বেড়ে যায় ১৫-১৭ টাকা। ময়মনসিংহের ফুলপুরে তুলনামূলক বেশি উত্পাদন হয় করলা। সেই জায়গায় বাজারভেদে কৃষকের বিক্রি মূল্য প্রতি কেজি করলা ৩-৫ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৮-১০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ২৫-৩০ টাকা। পরিবহন ব্যয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য মতে, ২-৩ টাকা। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায় ২২-২৭ টাকা। ঈশ্বরদী, পাবনা, রাজাপুর ও মোলাটুলিতে তুলনামূলক বেশি উত্পাদন হয় ঢেঁড়স। সেই জায়গায় বাজারভেদে কৃষকের বিক্রি মূল্য প্রতি কেজি ৪-৮ টাকা। পাইকারি মূল্য প্রতি কেজি ১০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকা। পরিবহন ব্যয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য মতে ২ টাকা প্রতি কেজি। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায় প্রতি কেজি ২১-২৬ টাকা। কাওরানবাজারে যে পণ্যটির পাইকারি মূল্য ৮ টাকা, মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে ফার্মগেট ফুটপাতের কাঁচাবাজারে সেই পণ্যের দাম হয়ে যায় ১৮-২০ টাকা। ১ কিলোমিটারের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়ে যায় ১০-১২ টাকা। এভাবেই কৃষিপণ্যের বাজারে ফরিয়া মহাজনের কালোবাজারি লুটপাট চলে। অন্যদিকে কৃষক ও ভোক্তা বঞ্চিত হয় তার ন্যায্যমূল্য থেকে। তাই কৃষক ও ভোক্তাদের রক্ষা করতে সরকারের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করাসহ কৃষকের বাজার তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সমবায়ভিত্তিক কৃষিবাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। ঢাকা