গৌরনদী হাসপাতালের সামনের প্যাথলজি সেন্টারে রোগী না পাঠালে চিকিত্সকদের রক্ষা নেই। টেস্টের জন্য রোগী বাগিয়ে নিতে প্রতিদিন সকাল থেকে চিকিত্সকদের কক্ষের সামনে দলবেঁধে বসে থাকেন প্যাথলজির মালিকরা। রোগীদের পেসক্রিপশন দেখে তারা (প্যাথলজির মালিকরা) নিশ্চিত হন তার প্যাথলজি সেন্টারে টেস্ট পাঠানো হয়েছে কি-না পাঠানো না হলে রক্ষা নেই। সাথে সাথে চিকিত্সকদের কৈফিয়ত তলব, বকাঝকা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন প্রতিদিনের ঘটনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গৌরনদী হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন চিকিত্সক বলেন, আমরা প্যাথলজি মালিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছি। নিরূপায়, বিচার পাই না। আমাদের সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। হয়রানির কবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অনেকেই এখানে যোগদানের পর পরই অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। গৌরনদী পৌরসভার প্যানেল মেয়র এসএম ফিরোজ রহমান জানান, গৌরনদী হাসপাতালে চিকিত্সক হয়রানি চলছে দীর্ঘদিন। কিন্তু অধিকাংশ প্যাথলজি মালিক সরকারি দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউ। কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগ নেতা জুলহাসের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্টের জন্য রোগী না পাঠানোর অপরাধে লাঞ্ছিত হয়েছেন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মনির। এ ঘটনায় হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ডাঃ মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন, হাসপাতালের সামনে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ জুলহাসের মালিকানাধীন ‘লাইফ সেভ ডায়াগনস্টিক সেন্টার।’ বুধবার অফিস আওয়ারে জুলহাস তার কক্ষে (ডাঃ মনিরের) ঢুকে তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগী না পাঠানোর ওজুহাত তুলে তাকে গালমন্দ করে মারার জন্য তেড়ে আসে। এ সময় অন্যান্য কর্মচারিরা ছাত্রলীগ নেতার কবল থেকে চিকিত্সককে রক্ষা করেন। ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গৌরনদী হাসপাতালের সামনে ১৩টি প্যাথলজিক্যাল সেন্টার। ৮টির বৈধ লাইসেন্স নেই। অধিকাংশ প্যাথলজিতে নেই কোন টেকনিশিয়ান বা প্যাথলজিস্ট। অনেকটিতে নেই প্রয়োজনীয় মেশিন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রি-এজেন্ট।
