আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, অসাংবিধানিক ও অনির্বাচিত কারো কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না সরকার। অনির্বাচিত সরকার আওয়ামী লীগ কখনোই মেনে নেবে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই আগামী দশম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সরকারে অরাজনৈতিক কেউ থাকবে না। সংসদের বাজেট অধিবেশনে উভয় দল অংশগ্রহণ করায় আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হলেও বিরোধী দল তা কাজে লাগাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি দিবসে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সব দলের পরামর্শই মূল্যায়ন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বিরোধী দলের আন্তরিকতার প্রয়োজন। বিরোধী দল এ বিষয়ে সংসদে এসে তাদের প্রস্তাব দেবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের মধ্যেই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে হবে। তারপর এটা নিয়ে বিভিন্ন টিমে আলোচনা হবে। এরপর আশা করি সর্বসম্মতিক্রমে আমরাই একটা প্রস্তাব সংসদে নিয়ে আসতে পারব। আর সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোন প্রস্তাব রাখে তাহলে তা পাস হবে। সংবিধান অনুযায়ীই আওয়ামী লীগ সঠিক সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বলেও জানান তিনি।
‘প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা মোগল সম্রাটের চেয়ে বেশি’ বলে ড. আকবর আলী খানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, সাবেক আমলা, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীদের মুখে এসব কথা শোভা পায় না। জনগণ এসব কথা শুনতে চান না। জানি না, তাদের মস্তিষ্কের শক্তি দুর্বল হয়ে গেল কিনা। তাছাড়া তাদের দায়িত্ব তো নির্বাচন করা কিংবা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনে যাদের কোনো অবদান নেই তেমন ব্যক্তিরা দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে পরিস্থিতি জটিল করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না। বিরোধী দলকে সংঘাতের পথ পরিহার করে সংসদে যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব তুলে ধরার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
