মানসম্পন্ন বীজের তীব্র সংকট

দিনাজপুরে চিনিগুঁড়া চালের উত্পাদন বিপর্যয়ের আশংকা

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
মানসম্মত বীজের অভাবে দিনাজপুরে এবারে চিনিগুঁড়া চালের উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সরকারি ধানবীজ নেই। সরকার অনুমোদিত বীজ উত্পাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর বীজের দাম চড়া। পাশাপাশি বাজারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোড়কের মতো প্রায় অভিন্ন মোড়কে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে নকল বীজ। কৃষকেরা কোন কিছু না বুঝেই তা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। গত মৌসুমে দিনাজপুরে চিনিগুঁড়া চালের উচ্চমূল্য পাওয়ার কারণে এবারও তারা উত্সাহী হয়ে উঠেন। গত মৌসুমে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-৩৪ জাতের আমন ধান আবাদ করা হয়েছিল। এবার ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে এই ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম জানান, এবারে দিনাজপুরে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএডিসি (বীজ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, ব্রি-৩৪ ধানের জন্য মোট ১৬০ টন বীজ ধানের চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়। পাওয়া গেছে মাত্র ৩ টন। অপরদিকে উপ-পরিচালক বিএডিসি (বীজ), দিনাজপুর (বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি) প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুরে তাদের অনুমোদিত বীজ ডিলার রয়েছেন ৩৫ জন। এবার শতাধিক কৃষক ব্রি-৩৪ জাতের আমন ধানের (চিনিগুঁড়া) বীজ উত্পাদন করেন। কিছু সংখ্যক অসত্ ব্যবসায়ী ঐ বীজ ৩০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে অনুমোদিত বীজ উত্পাদক প্রতিষ্ঠানের প্রায় অবিকল মোড়কে ভরে ৮০ টাকা কেজি দরে বাজারজাত করতে শুরু করেছে। তিনি বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু বীজ সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠিয়েছিলেনে পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার রিপোর্টে ওই বীজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর শতকরা ৪০ ভাগ অঙ্কুরোদগমও হবে না।