সিলেটের পর বিবিসি আয়েজিত ‘নির্বাচনী সংলাপ’ শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহীতে। বিবিসি বাংলা, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন মেয়র প্রার্থী নগরীতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনসহ সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মহানগরী গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ অডিটোরিয়াম থেকে রাত ৮ টা ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার উক্ত সংলাপ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বিবিসি বাংলা ওয়েবসাইট সম্প্রচার করে। বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা আকবর হোসেনের পরিচালনায় ও ওয়ালিউর রহমান মিরাজের প্রযোজনায় সংলাপে বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রধান সাবির মুস্তাফা, রাকিব হাসনাত ও বিবিসি অ্যাকশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হলে রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য শিল্প কারখানা স্থাপন, কৃষিপণ্যের বাজার তৈরিকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সমর্থন প্রসঙ্গে দর্শকদের এক প্রশ্নের জবাবে সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম মনোনীত ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, হেফাজতে ইসলাম কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। তাদের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের কোন প্রশ্নই আসে না। আমি নির্বাচিত হলে নগরীতে মাদক সেবন রোধে গণসচেতনতা তৈরিসহ রাজশাহীকে সন্ত্রাসমুক্ত নগরীতে পরিণত করবো। একই সঙ্গে রাজশাহীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষা নগরী ঘোষণা দেয়ার ব্যবস্থা করবো। এছাড়া বিকেএসপি, মেডিক্যাল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মহিলা মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে রাজশাহীতে পরিপূর্ণ শিক্ষা নগরীর রূপ দিতে চাই। তিনি বলেন, আগামী দিনে একটি সুন্দর, সবুজ, সন্ত্রাসমুক্ত নগরীর স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন থেকেই মেয়র প্রার্থী হয়েছি। বুলবুল বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমরা রাজশাহীতে অনেক দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছি, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন করেছি। নির্বাচিত হলে লিটনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।’
রাজশাহী নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নগরীতে দৃশ্যমান উন্নয়নের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে আমি ২৩ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১৪ দফা বাস্তবায়ন করেছি। আবারো নির্বাচিত হলে বাকিগুলোসহ ৩৭ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহীকে আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়তে চাই। দর্শকের প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, এখনই নগরীতে বাস নামালে কর্মহীন হয়ে পড়বে ৭ হাজার অটোরিকশা চালক ও মালিক এবং ২০ হাজার রিকশাচালক। রাজশাহীতে শিল্প কারখানা স্থাপন করে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পর বাস নামানো সম্ভব। অটোরিকশার কারণে যানজট ও চালকদের ট্রাফিক আইন না মানা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। লিটন বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে নগরীতে অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। আমার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য আবারো প্রার্থী হয়েছি। আমার সবচেয়ে বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগ শুক্রবার পূরণ হয়েছে। রাজশাহীর মানুষ গ্যাস সংযোগ পেয়েছে।
মাদক ইস্যুতে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে তিন মেয়র প্রার্থীই একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, মাদক সমস্যা সমাধানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে পারিবারিক এবং সামাজিক আন্দোলনের প্রতি জোর দেন মেয়র প্রার্থীরা।
