চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে সরে আসছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:৫২
দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চাক্তাই খাতুনগঞ্জ বিমুখ হচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। চেক প্রতারণা ও নৌপথে পণ্য পরিবহন সমস্যায় পাইকারি ব্যবসায় মন্দা চলছে। ভাঙাচুরা রাস্তা, নালা-নর্দমা ভরাট, পানি ও বিদ্যুত্ সংকটের কবলে অবহেলিত এই বাণিজ্য কেন্দ্র। পণ্যে ওজনে কম ও ভেজাল বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিকল্প বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নানামুখী সমস্যা ও ব্যবসায়িক প্রতারণায় ঐতিহ্য হারাচ্ছে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ। এই বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে নৌ ও সড়কপথে পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। নৌপথে প্রচুর পণ্য পরিবহনের কারণে চাক্তাই খালকে ‘বাণিজ্যিক খাল’ বলা হয়। কিন্তু পলি জমে চাক্তাই খালের মুখ ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে চাক্তাই খাল দিয়ে এখন আগের মতো পণ্য পরিবহন করা যায় না। জোয়ারের সময় ছোট আকারে সাম্পান পণ্য পরিবহনের জন্য চাক্তাই খালে প্রবেশ করলেও অন্যান্য নৌযান প্রবেশ করতে পারে না। খালের প্রবেশমুখে নির্মিত ব্রিজের স্প্যান নিচু হওয়ায় জোয়ারের সময় পণ্যবাহী নৌযান চাক্তাই খালের গভীরে চলাচল করতে পারে না। চাক্তাই খালের প্রবেশমুখ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভিতরে প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, সেখানে নৌযান পৌঁছতে পারছে না। শ্রমিকদের কাঁধে অথবা টেইলারে করে পণ্য অনেক দূরে নিয়ে নৌযানে তুলতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এক সময় চাক্তাই খালের চামড়া গুদাম থেকে ইছাক্কার পুল পর্যন্ত খালের দুইপাশে শ’ শ’ নৌযানে পণ্য পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সেই চিত্র দেখা যায় না। চাক্তাই খালের প্রবেশমুখে সিটি কর্পোরেশন একটি সেতু নির্মাণ করছে। এর স্প্যান নিচু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন। চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, ‘সেতুর গার্ডার নিচু হওয়ায় নৌযান চাক্তাই খালের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ চাক্তাই খাল দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানো হয়। রাস্তাঘাট ভাঙাচুরা, অপরিকল্পিত নালা নির্মাণে সড়কে পানি জমে থাকে। চেক প্রতারণা চলছে অহরহ। চাক্তাই খালের মাটি সরানো না হলে অচিরেই নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।’ সিটি কর্পোরেশন জানায়, খালের প্রবেশমুখে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী জুলাইয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সেতুটি পার্শ্ববর্তী সেতু থেকে আরো ৩ ফুট উঁচু করে করা হচ্ছে। এতে নৌযান চলাচলে কোন সমস্যা হবে না। আগামী অর্থবছরে খাল খননের প্রকল্প নেয়া হয়েছে।’ চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়লেও সড়কগুলো প্রশস্ত হয়নি। যানজট লেগে থাকে। এক কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ভাঙাচুরা রাস্তা, বড় বড় গর্ত, নালাগুলো রাস্তা থেকে উঁচু। রাস্তার পানি নালা দিয়ে যেতে পারে না। অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট। সন্ধ্যার পর রাস্তা অন্ধকার। এলাকায় বসতি বেড়েছে। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হয়েছে বাণিজ্যিক এলাকায়। পণ্য ওজনে কম দেয়ায় ব্যবসার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ী ওমর ফারুক জানান, চাক্তাই থেকে চাল কিনলে বস্তাতে ১/২ কেজি কম থাকে। তাই পাহাড়তলী বাজার থেকে দোকানের পণ্য কেনেন তারা। চেক প্রতারণা ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৬/৭ বছর যাবত্ চাক্তাই খাতুনগঞ্জে চেক প্রতারণা চলছে। অনেক ব্যবসায়ীকে পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।