হিরন ও কামালের প্রচারণা তুঙ্গে, চাপের মধ্যে মামুন

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:৫২
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীরা ছুটে চলেন ভোটারদের পিছনে। তবুও সকল ভোটারের সাথে এখনো দেখা মেলেনি মেয়র প্রার্থীদের। ভোটাররা অধিকাংশ মেয়র অথবা কাউন্সিলর প্রার্থীর হয়ে নিজেরাই ভোট চাইতে ছুটছেন অন্যত্র। অনেক বাসাবাড়িতে ঝুলছে তালা। কলকারখানায় যেসব শ্রমিক কাজ করে রাতে বাসায় ফেরেন তারা নির্বাচনী উত্সবে নেই। তাদের অনেকের সাথেই এখন পর্যন্ত কোন মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থীর দেখা হয়নি। বাসাবাড়িতে গিয়ে ভোটারদের না পেয়ে প্রার্থীরা এখন হাটে-ঘাটে, বাজারে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস- আদালত ও স্কুল-কলেজগুলোকেই গণসংযোগের স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছেন। প্রার্থীরা জানান, অনেক দূরের কোন এলাকায় কষ্ট করে গিয়েও ভোটারদের বাসাবাড়িতে পাচ্ছেন না। বাসাবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে যুবক-কিশোর-কিশোরীরা পর্যন্ত তাদের স্ব-স্ব প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ব্যস্ত। প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ থেকে শুরু করে বাংলা ও ইংরেজি হরফে ভোট প্রার্থনা করে পচ্ছন্দের প্রতীকটি পরিচয় করিয়ে দিতেই তাদের সকল ব্যস্ততা। মাইকে শ্লোগান দেয়া, কবিতা পাঠ বা গানের সুরে ভোট চাইতে ব্যস্ত দুরন্ত কিশোর ও যুবকরা। বৃদ্ধরা চায়ের আড্ডায় নির্বাচনী বচসায় লিপ্ত হচ্ছেন। নিরপেক্ষ ভোটার শনাক্ত করাও এখন মুশকিল। তবে শওকত হোসেন হিরন এবং আহসান হাবিব কামালের প্রচারণা তুঙ্গে উঠলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন প্রচারণার ক্ষেত্রে চাপের মুখে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চায়ের আড্ডায় মেয়র প্রার্থী নিয়ে বির্তকে লিপ্তরা দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে আছেন। কেউ ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে মূল্যায়ন করেই তাকে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর হিরনবিরোধীরা প্রার্থী বা মার্কা নয়, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ভোট প্রদান করাই ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে করছেন। এ কারণেই সরগরম ভোটের হাওয়া। শওকত হোসেন হিরনের বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার আধুনিক রূপ-সৌন্দর্যের নগরীর নকশা তৈরি করে সাঁটানো হয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার ইসলামী ভাস্কর্যের নকশা তৈরি করে আহসান হাবিব কামালের পক্ষে সাঁটানো হয়েছে ব্যানার। এছাড়াও ছবিযুক্ত নানান শ্লোগান সংবলিত পোস্টার-ব্যানারে নগরীতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তবে অন্যের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা বা পোস্টারের উপর পোস্টার টানিয়ে দেয়ার মতো প্রতিহিংসার সেই সংস্কৃতি নেই। শুধুমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুনের কর্মী-সমর্থকরা চাপের মুখে রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। মেয়র প্রার্থী খান মামুন অভিযোগ করেন তার বাসার সামনে সার্বক্ষণিক র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ অবস্থান করছে। তার দুইজন কর্মীকে শুক্রবার রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের একজনকে ৫ পিস ইয়াবা ও একজনকে ৫শ টাকার একটি জালনোটসহ চালান দেয়া হয়।