ম্যান্ডেলার অবস্থা সংকটজনক

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানী প্রিটোরিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেকব জুমার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেলসন ম্যান্ডেলার অবস্থা ‘খুবই গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তিনি কোন সাহায্য ছাড়াই নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। ৯৪ বছর বয়স্ক ম্যান্ডেলা বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ, কিন্তু শুক্রবার রাতে তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে প্রিটোরিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর বিবিসির। প্রেসিডেন্ট জেকব জুমা তার সরকার এবং জাতির পক্ষে ম্যান্ডেলার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং সংবাদমাধ্যম ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ম্যান্ডেলা ও তার পরিবারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের নিজেদের মত থাকতে দেন। প্রিটোরিয়ার রাস্তায় সাধারণ মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রতি তাদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছেন এবং একইসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। জোহানেসবার্গের এক শহরতলীতে তার বাসা থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত দেড়টায় ম্যান্ডেলাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। অন্তত একজন করে নিকট আত্মীয় হাসপাতালে তার কাছে থাকছেন। সমপ্রতি ম্যান্ডেলা বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত দুবছরে এই নিয়ে তাকে পাঁচবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হল। গত এপ্রিল মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর ম্যান্ডেলাকে ১০ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। এবারও তার অসুস্থতা ফুসফুসের প্রদাহের কারণে বলে জানানো হয়েছে। একই সমস্যায় তিনি বার বার আক্রান্ত হচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন নেলসন ম্যান্ডেলা এবং দেশটির তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার গণতন্ত্রের জনক বলে বর্ণনা করা হয়। তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এর আগে ২৭ বছর তিনি কারাভোগ করে ১৯৯০ সালে মুক্তি পান। রোবেন আইল্যান্ডে কারাবাসের সময় ১৯৮০-র দশকে তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। ধারণা করা হয়, কারাগারের উন্মুক্ত খনিতে কাজ করার সময় তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৪ সালে তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেন। এ সময় থেকে প্রকাশ্যে তাকে দেখা গেছে খুবই কম। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য ১৯৯৩ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা সাবেক প্রেসিডেন্ট এফ ডাব্লিউ ডি ক্লার্কের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।