চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয় করতে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি হুমায়ুন কবীর ও এআইজি জিয়াউর রহমান নির্বাচনকালীন পুরো পরিস্থিতি মনিটর ও সমন্বয় করছেন। পুলিশ সদর দফতর থেকে চার সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত পুলিশকে জিরো টলারেন্সে থাকতে বলা হয়েছে।
চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত-শিবির, হেফাজতে ইসলাম ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের তত্পরতা থাকায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। একজন মেয়র ও একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে তারা মাঠে নামায় স্থানীয় প্রশাসন উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে গোপনে মাঠ জরিপ করে কোন কোন এলাকা এবং ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তার তালিকা করা হয়েছে। পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি কাজ করছে গোয়েন্দারাও। রাজশাহীর পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ কাটেনি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ সদর দফতর। এছাড়া সেখানে হেফাজত ইসলামের তত্পরতা পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে। ১৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগের রাত ১২টা থেকে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা থাকবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে।
খুলনায় চরমপন্থি তত্পরতার বিষয়টি মাথায় রেখেছে পুলিশ। তবে গোয়েন্দা তথ্য মতে, সম্প্রতি র্যাব-পুলিশের অভিযান ও ক্রসফায়ারের ঘটনায় চরমপন্থিরা সুবিধা করতে পারছে না। এরপরও যাতে তারা নতুন করে মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে স্থানীয় পুলিশকে তাগাদা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।
অন্যদিকে সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ তেমন উদ্বিগ্ন নয়। সেখানে জামায়াতের গোপন তত্পরতার দিকে চোখ রাখছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৫ জুন বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
