রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পুরণজিত মহালদারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কান ধরে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ঘটনার পর বিভাগীয় সভাপতি বরাবর অভিযোগ করলেও কোন সুবিচার হয়নি বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনাটি দুঃখজনক বলে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছেন।
বিভাগের চতুর্থ বর্ষের অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী বাংলা সাহিত্যের এক অ্যাসাইনমেন্ট অর্থাত্ গৃহকাজ বা হোমওয়ার্ক না করায় প্রভাষক পুরণজিত মহালদার তাদের কান ধরে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। অনেক শিক্ষার্থী অপমানে ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষকের ক্লাস করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, একই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরুর দুইদিন আগে (২৬ মে) ক্লাসের পড়া তৈরি না করায় দুই ছাত্রীকে কান ধরার নির্দেশ দেন। এতে অপমানবোধে এক ছাত্রী অসুস্থবোধ করলে তাকে কয়েক মিনিট বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অপরজনকে কান ধরতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগীরা বলেন, ছোটবেলায় স্কুলে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষবর্ষে এ ধরনের শাস্তি মেনে নেয়া সত্যিই কষ্টকর। কিন্তু বিভাগীয় সভাপতি বিষয়টি আমলেই নিচ্ছেন না।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বিভাগীয় অধ্যাপক ড. শহীদ ইকবালের বিরুদ্ধেও। তিনি বিগত ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি একই বর্ষের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের কান ধরিয়ে উঠ-বস করান বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তবে শহীদ ইকবাল সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেন।
রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ ও ঘটনার সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
