টেকনোলজির সাথে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। ইন্টারনেট কিংবা প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট ছাড়া একটা দিন পার করার কথা ভাবা যায় না। আর এইসব ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস কিংবা সফটওয়্যারের পিছনে কাজ করছেন হাজার হাজার তরুণ প্রতিভা। একাধারে তরুণ মেধাবী রিসার্চার এবং ডেভেলপারদের কয়েকজনকে নিয়ে আজকের আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
জে ফ বে জো স
জেফ বেজোস, আমাজন সাইটের এই প্রতিষ্ঠাতার জন্ম হয়েছিল ১২ জানুয়ারি। বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির ফাউন্ডার, প্রেসিডেন্ট ও চিফ এক্সিকিউটিভ পদে আছেন। তিনি পড়াশোনার পাঠ শেষ করেছিলেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানিতে পার্টটাইমার হিসেবেও কাজ করতেন। সেখান থেকেই তিনি তার ক্যারিয়ারের শুরু করেন। প্রথমে তিনি একজন ওয়েব সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতেন। অর্থাত্, প্রোগ্রাম রিসার্চ ও কোড নিয়ে গবেষণার কাজটা তিনি করতেন। তিনি আমাজন প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯৪ সালে। ছোট একটি ব্যবসা ধারণা থেকেই জন্ম নেয় আজকের এই বিশাল প্রতিষ্ঠান আমাজন।
==
ক্যা থে রি ন
ক্যাথেরিন, যার অভিনব চিন্তা তাকে মিলিয়নিয়ারের খেতাব এনে দিয়েছে। ২০০৫ সালের মার্চ নাগাদ ইন্টারনেটের এ মহাসাগরে যুক্ত হয় আরও একটি জাহাজ, নাম মাই ইয়ারবুক ডট কম। মুহূর্তেই তৃতীয় স্থানে চলে আসে সেটি। আলোচনার মূলে আসার আরও একটি কারণ হলো, এর নির্মাতাদের বয়স, ডেভিড (১৯) ও ক্যাথেরিন (১৮)। এ ঘটনার প্রায় বছর তিনেক আগে ডেভিড ও ক্যাথেরিন তাদের স্কুলের বর্ষসংখ্যার জন্য ইন্টারনেটে ঢুঁ দিচ্ছিল। একবাক্যে সেটি হবে তাদের অনলাইন ইয়ারবুক। সেখান থেকেই আজকের সফল একজন ওয়েব রিসার্চার ও ডেভেলপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ক্যাথেরিন।
==
মা ই কে ল
১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে জন্মগ্রহণকারী মাইকেল ডেলের প্রধান পরিচয় তিনি ডেল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী, যিনি একজন ওয়েব রিসার্চার হিসেবেও পরিচিত। ১৯৮৪ সালে তার কোম্পানি যখন যাত্রা শুরু করে তখনও তিনি ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ছাত্র। তার অবিশ্বাস্য অগ্রগতির অন্যতম কারণ তার পণ্যসামগ্রী (ডেল কম্পিউটার) কিছুটা কম দামে সরাসরি ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর কৌশল গ্রহণ। ফলে দ্রুত তিনি বাজার দখল করতে সক্ষম হন। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই তিনি আয় করেন ২৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সর্বশেষ হিসাব মতে তার বর্তমান সম্পত্তি প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার!
==
শ ন ফ্যা নি ং
শন ফ্যানিং একজন আমেরিকান। পেশায় একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং সফটওয়্যার রিসার্চার। সেই সাথে একজন উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী হিসেবেও পরিচিত তিনি। তবে এসব দিক দিয়ে নয়, তিনি মূলত সকলের কাছে সুপরিচিত একটি ওয়েবসাইট এর কারণে। এ সাইটটির কথা কমবেশি আমরা সকলেই জানি। ন্যাপস্টার নামক সাইটটির ডেভেলপার হিসেবে একনামে সকলে চেনে তাকে। ন্যাপস্টার খুব দ্রুত জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের তালিকায় চলে আসে। এটাই প্রথম পিয়ার টু পিয়ার (পিটুপি) ফাইল আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম।
==
অ্যা ন্ড্রু
গ্রুপ অন কোম্পানি, সোস্যাল মিডিয়া শপিং সাইট এবং শহরে হটেস্ট ইন্টারনেট স্টার্ট আপ চালু করেন অ্যান্ড্রু মেশন। ইন্টারনেট সরবরাহ করাই হলো কোম্পানির মূল কাজ। পাশাপাশি সোস্যাল নেটওংয়ার্কিংয়ের কাজও করে এই কোম্পানি। কোম্পানির উদ্যোক্তা অ্যান্ড্রু মেশন। তিনি অবশ্য আইটি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর এক ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিতে যোগ দেন। তিনি কোম্পানিকে অনেক মূলধনের যোগান দিয়েছিলেন। তার আরও একটি পরিচয় হলো তিনি একজন ওয়েব ডেভেলপারও বটে। কিন্তু তা নিছকই তার শখের বশে করা। পেশার স্বার্থে তিনি জড়িয়ে আছেন নেটওয়ার্কভিত্তিক একটি কোম্পানির সাথে।
