‘বাবা’— পৃথিবীর সুন্দরতম শব্দগুলোর মধ্যেও সুন্দরতম। জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে বিপদ-আপদ-আনন্দ-বেদনায় পাশে থেকে সাহস ও সাহায্য যোগান যিনি তিনি আর কেও নন; বাবা। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতেও পারে না। পরিবারের মহীরুহ হয়ে দায়িত্ব পালনে, সন্তান-সংসার পরিচালনায় ব্রতী তিনি। শাসনে কঠোর, ভালোবাসায় কোমল, স্নেহে উদার, ত্যাগে অগ্রগামী বাবা, যিনি জন্মদাতা। বাবার প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শনে একটি দিন বিশেষ কিছু নয়। তবু শুধুই তার জন্য একটি দিন, একটু আলাদা করে উদযাপন করতেই বাবা দিবস।
বাবা হলেন অদ্বিতীয় আলো, যার আলোয় আলোকিত হয়েই আমাদের সারাজীবনের পথচলা। তবু সন্তানরা বড় হয়ে কর্মব্যস্ততায়, লেখাপড়া ও নানা কাজের চাপে বাবা-মাকে সময় দিতে পারে না। কেউবা প্রবাসে, কেউবা বাবাকে গ্রামে রেখে শহরে পাড়ি জমাই। অনেক সময় ভুলতে বসি বাবাকে। আর তাই বাবার জন্য বিশেষ একটা দিনমাত্র। বাবারা যে কোন ধরনের দুঃখ-কষ্ট একাই সহ্য করেন। সব সময় চেষ্টা করেন দুঃখ-কষ্ট যেন সন্তানদের স্পর্শ না করে। সন্তানের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে সারাজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। সন্তান জন্মগ্রহণের পূর্বেই বাবা আয়োজন করতে থাকেন নবজাতকের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা। আর আমাদের নগরকেন্দ্রীক সমাজে তো মামা-বা উভয়েই কর্মজীবী। তাই সন্তান জন্মগ্রহণের সময় মায়ের পাশে বাবার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। পৃথিবীর অনেক দেশেই পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা আছে। এজন্য আমাদের দেশেও দাবি উঠেছে পিতৃত্বকালীন ছুটির। এই দাবিটি বেশ জোরদার হয়েছে বিগত বছরগুলোতে। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন অফিসে কর্মজীবীরা পিতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করতে পারছেন।
পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, বর্তমান সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করেছে। আমাদের দেশে কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তাদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমরা নেব।
পেশায় ব্যংকার প্রশান্ত কুমার পাল। এখান থেকে চার বছর আগে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হয়। তখন আমাদের দেশে পিতৃত্বকালীন ছুটির চল সেভাবে শুরু হয়নি। তাই সারা বছরে তার জন্য যে ছুটি বরাদ্দ থাকে সেখান থেকে ছুটি নেন তিনি। আর এভাবেই সন্তান জন্ম নেয়ার সময় স্ত্রীর পা শে ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তার ব্যাংকে আর এই সমস্যায় পড়তে হ্যয় না তার সহকর্মীদের। কারণ তার ব্যাংকে চালু হয়েছে পিতৃত্বকালীন ছুটি। প্রশান্ত কুমার পাল মনে করেন, সন্তানের জন্মগ্রহণ যে কোন মানুষের জন্যই স্মরণীয়, গুরুত্বপূর্ণ, এবং স্ত্রীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে স্ত্রীর পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর এর জন্য আমাদের নগর জীবনে পিতৃত্বকালীন ছুটি অত্যন্ত জরুরি।
