ঘরের শোভাবর্ধনে মাটির তৈরি শৌখিন তৈজসপত্র ও শোপিচ বিদেশে রপ্তানি করে গত তিন বছরে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন বরিশালে আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় মগরা গ্রামের শ্যামল কুমার পাল। শৈল্পিক নিপুণতায় ঘরের শোভাবর্ধনে সুনিপুণ কারিগর শ্যামল মাটি দিয়ে তৈরি করছেন কলমদানি, ওয়ালটপ, লাঠি, দড়ির পট, থিনপট, পাতাসহ ঘরের শোভা বর্ধনের ৬০ প্রকারের তৈজসপত্র ও শোপিচ। মাটি দিয়ে এসব তৈজসপত্র ও শোপিচ তৈরির পর রোদে শুকানো, রং করা, প্যাকেটিংসহ সকল কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী পূর্ণিমা রানি পাল। পর্যায়ক্রমে শ্যামল নিজবাড়িতেই গড়ে তুলেছেন মাটির তৈজসপত্র ও শোপিচ তৈরির কারখানা। যেখানে এখন নিয়মিতভাবে কাজ করছেন ১০ জন শ্রমিক। শ্যামলের তৈরি তৈজসপত্র ও শোপিচ ঢাকা হ্যান্ডিক্রাপট, হিট হ্যান্ডিক্রাপট কোয়দিজুকস্সহ বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে রপ্তানি করা হচ্ছে জার্মানি, নিউজিল্যাল্ড, আমেরিকা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। বেশ অল্পদিনেই ওইসব দেশে শ্যামলের তৈরি মাটির তৈজসপত্র ও শোপিচ ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। যে কারণে এখন আরো বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা ছুটে আসছেন শ্যামলের বাড়িতে। কিন্তু বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকার কারণে শ্যামল চাহিদা অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ করতে পারছেন না। শ্যামলের মতে, বিদ্যুত্ সংযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এলাকার বেকার জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মাটির তৈরি এ সকল সামগ্রী বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সম্ভব। শ্যামল কুমার পাল জানান, ঢাকার রায়ের বাজারের সুভাষ পালের কাছে পাঁচ বছর কাজ শিখে কারুকার্যের নিপুণতা রপ্ত করেন। বড়মগরায় বসবাসের শুরু থেকেই তিনি মাটির তৈজসপত্র ও শোপিচ তৈরির কাজ শুরু করেন। শ্যামল কুমার পালের বাড়িতে বসেই কথা হয় এসব তৈজসপত্র ও শোপিচ সরবরাহকারী এজেন্ট শাহাবুদ্দিন ও উত্তম পালের সাথে। তারা জানান, দেশ-বিদেশে মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্র ও শোপিচের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তারা বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির তৈরি এসব সামগ্রী ক্রয় করে জার্মানি, নিউজিল্যাল্ড, আমেরিকা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
শ্যামল কুমার পাল এলাকার বেকার জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৃত্তিকা শিল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে চান। আর এ জন্য তিনি তার তৈজসপত্র ও শোপিচ তৈরির কারখানায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
