কপোতাক্ষ পুনঃখনন প্রকল্প অনিশ্চিত

পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু না হলে কপোতাক্ষ নদের মৃত্যু অনিবার্য

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৩, ২১:১৪
প্রায় এক যুগ ধরে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মঙ্গলার্থে ২০১১ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেন। বর্ষার আগে এই প্রকল্পের শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চতা দেখা দিয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প’ ৪ বছর মেয়াদে তালার জালালপুর ও খেশরা ইউনিয়নের পাখিমারা বিলে টিআরএম বা জোয়ারাধার বাস্তবায়ন এবং ৯০ কিঃমিঃ কপোতাক্ষ নদ খনন করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই কার্যক্রম চালু করা হয়নি। ১ম বছর জোয়ারাধার চালুর জন্য ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ছাড় করা হয়েছে ১৩ কোট টাকা। এতে ওই বিলে পেরিফেরিয়াল বাঁধের ৮০ শতাংশ কাজ হয়েছে। ২য় বছরের জন্য ১১৪ কোটি টাকার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। প্রকল্পে অবকাঠামো নির্মাণ ও জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই হাজার একর জমির মালিকদের তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যার ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় বর্ষার আগে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জোয়ার-ভাটার নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম প্রকল্পের বিকল্প নেই। এ বছর পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু না হলে পলি জমে কপোতাক্ষ নদের অকালমৃত্যু অনিবার্য। এই নদের বাঁচা মরার উপর প্রায় ১৫ লাখ লোকের জীবিকায়ন নির্ভরশীল। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ড. মুহাঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা এসেছে। খুব দ্রুত তা প্রদান করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, টিআরএমভুক্ত জমির মালিকদের বিঘাপ্রতি ১৩ হাজার টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্থানীয় (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, দ্রুত কপোতাক্ষ নদ খনন করে জনগণের দুঃখ লাঘব করা হবে।