ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাবি আহম্মেদ (৪৫) পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রাঘাইচট্টি এলাকার মৃত দোদা বেপারীর ছেলে। শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে রবিবার বিকালে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মটর সাইকেলযোগে চাচাত ভাই শফিকুলকে নিয়ে হাবি আহম্মেদ তার বাড়িতে যাওয়ার সময় হাসপাতাল রোডের ষোলহাসিয়া এলাকায় সোহরাবের স’ মিলের সামনে ওত পেতে থাকা ১০/১২ জন সন্ত্রাসী গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে মটর সাইকেলের গতিরোধ করে হাবি আহম্মেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে লঞ্চঘাটা বধ্যভূমি সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়। শফিকুল পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। থানা থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে পৌর শহরের প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটলেও হাবি আহম্মেদের আর্তচিত্কারে কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। ঘটনার ৪৫ মিনিট পর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে গফরগাঁও থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিত্সাধীন অবস্থায় হাবি আহম্মেদ মারা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডাক্তার আছমা বেগম জানান, গুরুতর জখমের পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। লাশের সুরতহাল রিপোর্টকারী এসআই আবুল হোসেন জানান, চোয়াল, পেট, হাত, উরু, হাঁটুসহ নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো রাম দা’র কমপক্ষে ১০-১২টি গভীর ক্ষতের কাটা ছিল। তার ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে ছিল।
সকাল ১১টার দিকে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি সশস্ত্র মিছিল বের হয়ে বাদল, বারেক আকন্দ, খোকন ও আবুল কালামের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় সোহরাবের স’ মিল ভাঙচুর করা হয়। ওসি সাইফুল ইসলাম ফরাজি জানান, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি। পৌর ছাত্রলীগের ২টি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ কারণেও এ নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে।
