বাগেরহাটের ফকিরহাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খান জাহিদ হাসানকে ভাড়াটে খুনিরা পনের লাখ টাকা চুক্তিতে হত্যা করেছে। টাকার যোগান দিয়েছেন ফকিরহাটের অন্তত তিন ব্যক্তি। হত্যা পরিকল্পনার সভাগুলো হয়েছে বাগেরহাটের ফকিরহাটে এবং খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি এলাকায়। হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ফকিরহাট, খুলনা ও অন্য স্থান থেকে আসা নয়-দশজন হত্যাকারী। খান জাহিদ হাসানের সাথে নিহত ভাড়ার মটরসাইকেল চালক মুন্না আকন (২৮) পরিস্থিতির শিকার। জাহিদকে ছোঁড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিহত হন মুন্না ।
খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া আলমগীর শেখ বাঘা (৩২) নামে এক যুবক শনিবার খুলনার মুখ্য বিচারিক হাকিমের (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন। তিনি নিজেও ঐ হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। শুক্রবার খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পূর্ব রূপসা ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিল।
খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের ইদ্রিস শেখের ছেলে আলমগীর শেখ বাঘা নৈহাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মিনার দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত। তিনি হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। পূর্ব রূপসা ফেরিঘাট এলাকার একটি হত্যা মামলায় বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। পুলিশ বলছে, বাঘা একজন পেশাদার খুনি।
খুলনা আদালতের বিচারিক হাকিম মো:সাঈদুর রহমান শনিবার বিকাল সাড়ে চারটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত চার ঘন্টা ধরে আলমগীর খান বাঘার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে রাতেই তাকে খুলনা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১৮ মে সকাল পৌনে দশটার দিকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আমদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খুলনা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কে মটরসাইকেলে আসা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খান জাহিদ হাসান (৫৩) ও তাকে বহনকারী ভাড়ার মটরসাইকেল চালক মুন্না আকনকে (২৮) গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
