অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে এডভোকেট আসিফা আশরাফি পাপিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বললে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য পাপিয়া পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কারো কাছে মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি করে না। সকলে জানে কারা মুচলেকা দিয়ে ‘৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তারেক রহমান চিকিত্সার জন্য বিদেশে রয়েছেন।
পাপিয়ার বক্তব্যের সময়ই সরকারদলীয় হুইপ আ স ম ফিরোজ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ফজলে রাব্বি মিয়া কথা বলতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এক পর্যায়ে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে স্পিকার শিরীন শারমিন পাপিয়াকে কথা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন।পাপিয়ার বক্তব্যের পরে ফজলে রাব্বী মিয়া বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। তিনি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানিয়ে বলেন, এই বক্তব্য কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী হয়নি।এরপর আব্দুল মান্নান বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারের নামে সংসদ নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য রেখেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য।আমি তার সমস্ত বক্তব্যের ধিক্কার জানাই।স্পীকার বলেন,আপনি যে বক্তব্যের বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আমি সেটা পরীক্ষা করে দেখব এবং কোন অসংসদীয় বিষয় থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করার ক্ষেত্রে আমি উদ্যোগ গ্রহণ করব।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনিকে ‘হাইব্রিড’ নেতা আখ্যায়িত করে পাপিয়া বলেন, তিনি রাজনীতিতে হঠাত্ করে হাওয়া থেকে পাওয়া হয়ে এসেছেন। রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্য যে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয় এটা তার নেই। তারেক রহমান দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন। তারেক রাজনীতিবিদ নন এমন কথা দীপু মনির মত একজন ‘হাইব্রিড’ নেত্রীর মুখে শোভা পায় না।
আসিফা আশরাফীর দেয়া বক্তব্য পয়েন্ট অব অর্ডারের বিধি মোতাবেক হয়নি উল্লেখ করে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বি মিয়া তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। এরপর সরকার দলের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, বিরোধী দল বেতনভাতা রক্ষায় সংসদে এসেছে তারপরও আমরা তাদেরকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু অধিবেশনের শুরু থেকেই প্রতিদিনই তারা পয়েন্ট অব অর্ডারের কথা বলে ইস্যু ভাগ করে নিয়ে একটার পর একটা অশালীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। আজকে সংসদ সদস্য যে বক্তব্য রেখেছেন। উনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। উনার (পাপিয়ার) বক্তব্যের প্রতিটি শব্দই ধিক্কার জানানোর মত ও অশালীন। আমি এই সংসদে তার বক্তব্যের ধিক্কার জানাই।
তিনি বলেন, তারেক রহমান যদি বিশাল নেতাই হবেন তাহলে দেশে এসে কোর্টকে ফেস করতে বলেন। বিরোধী দলকে বলব তাকে দেশে ফিরতে বলেন।
পাপিয়ার বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংসদ উত্তাপের মধ্যে ছিলো। দ্বিতীয় দফায় উত্তাপ ছড়ায় বিএনপির রেহানা আক্তার রানু বক্তব্য রাখার সময়।
রানু সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, স্পিকার আপনি সংসদের অভিভাবক। আগামী সংসদ নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, নির্বাচনে যাতে সকল দল অংশ নিতে পারে, কেউ যেন গায়ের জোরে একদলীয় নির্বাচন করতে না পারে সে জন্য কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করি। যখন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নিয়ে কথা বলছেন তখন শোনা যাচ্ছে আপনার অধীনে নির্বাচন করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। আমার এলাকা ফেনীর ভাষায় বলতে চাই- ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার লই চুদুর-বুদুর চইলত ন’। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন তা একটি সুন্দর ছলনাময়ী নারীর মতো। সুন্দর সুন্দর কথা সুন্দর সুন্দর প্রস্তাবনা সবই আছে। কিন্তু সব কিছুই ছলনা। রেহানা আরও বলেন, তারেক রহমানের পিছনে সময় ব্যয় না করে নিজেদের পিঠের চামড়া বাঁচানোর জন্য প্রস্তুত হোন। আমাদের কথা বাদ দিলাম-হেফাজত আর জামায়াতের সঙ্গে যা করেছেন, খবর আছে। পিঠের চামড়া থাকবে না বলে দিলাম। রেহানা আরো বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর চাপায় যা আছে বাস্তবে তা নেই। হিটলারের তথ্যমন্ত্রী গোয়েবলসের মতোই আজকে তথ্যমন্ত্রী কাজ করছে। একটি বিশেষ সংস্থার লোকেরা পত্রিকা অফিসে অবস্থান নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। রেহানা বক্তব্য রাখার সময় কয়েকবার স্পিকার বলেন, মাননীয় সদস্য আপনি সম্পূরক বাজেটের উপর বক্তব্য রাখুন। এরপর রেহানা বলেন, পুলিশের বুটের তলা ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের চাপাতির আঘাতে গণতন্ত্র আজ লণ্ডভণ্ড। নৌকা মার্কার ভোটার বিশ্বজিত্ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখতে গেলেন না। কিন্তু নাস্তিক ব্লগার রাজীবের বাসায় গিয়ে রাজীবের আদর্শের স্বীকৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাস্তিকদের উস্কানিদাতা। তিনি বলেন, গত ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র অসংখ্য আলেমকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে। সে হত্যায় অংশ নেয়া পুলিশ বাংলাদেশের পুলিশ নয়। সেখানে কি যুবলীগ অংশ নিয়েছিল না ভিন দেশি কোন বাহিনী ছিল। তা দেশবাসী জানতে চায়।
