দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর কানাডার নাগরিক ও স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্তরা তাদের মা-বাবা ও দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কানাডায় আনতে স্পন্সর হওয়ার সুযোগ ফিরে পাচ্ছেন। সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কানাডা (সিআইসি) সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় হাজারো প্রতীক্ষারত মানুষের জন্য এই সুসংবাদ জানিয়ে বলেছে, প্যারেন্ট অ্যান্ড গ্রান্ডপ্যারেন্ট স্ট্রিম অব দ্যা ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ কর্মসূচির আওতায় ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি থেকে পুনরায় আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে।
নাগরিকত্ব, অভিবাসন ও বহুসংস্কৃতি মন্ত্রী জেসন কেনি বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের দ্রুত পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা জমে থাকা আবেদনপত্রের স্তূপের কারণে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার অর্ধেকই নিরসন করবে। যুগোপযোগী কয়েকটি নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রিয়জনকে দ্রুত কাছে পাওয়া সম্ভব হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় মাত্র পাঁচ হাজার আবেদনকারীকে সুযোগ দেয়া হবে। কোনভাবেই নির্ধারিত এই সংখ্যায় পরিবর্তন আনা হবে না।
সিআইসি চার ধাপের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এক: কানাডা ২-১২-২০১৩ সময়কালে প্রাদেশিক আইনে আনুমানিক ৫০ হাজার মা-বাবা ও দাদা-দাদি গ্রহণ করেছে, যা ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে আবেদন জটের অর্ধেক নিষ্পন্ন হয়েছে এবং অপেক্ষাকালীন সময়ও অনেক কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচি আবার শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছে। দুই: মা-বাবা, দাদা-দাদিকে কানাডায় দীর্ঘকালীন ভ্রমণকারীর সুযোগ করে দেয়া জনপ্রিয় সুপার ভিসা কর্মসূচি স্থায়ী করা হয়েছে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে কর্মসূচিটি শুরু করার পর ১৫ হাজারের বেশি সুপার ভিসা দেয়া হয়েছে। তিন: ২০১৪ সালে আবার শুরু হওয়া কর্মসূচিতে মা-বাবা, দাদা-দাদিকে কানাডায় আনতে নতুন ও সর্বাধিক গুরুত্বর্পূর্ণ যে শর্ত বা মানদন্ডটি বেঁধে দেয়া হয়েছে, তা হচ্ছে স্পন্সরকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে পরিবারের সদস্যদের কানাডায় যাবতীয় ভরণ-পোষণের পর্যাপ্ত সামর্থ্য তার আছে। সাধারণ কানাডিয়ানদের কষ্টার্জিত আয়ের ওপর কর বসিয়ে, পরিবারের সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে লালন-পালনের সুযোগ বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
