মান্দায় স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি

বখাটে ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ২২:১৫
নওগাঁর মান্দায় দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি সালিশ বৈঠকের নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় রুবেল হোসেন (২৫) নামে এক বখাটে যুবকসহ ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন শেখের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মান্দা দক্ষিণ মৈনম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে কোচিং পরীক্ষা দিয়ে দুই সহপাঠির সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় গ্রামের জনৈক আনিছুর রহমানের ছেলে রুবেল হোসেন তার শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ সময় তার চিত্কারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই বখাটেকে হাতে-নাতে আটক করে। আটক বখাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন শেখের নিকটে জিম্মায় রাখা হয়। ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে বখাটে রুবেল প্রায়ই তাদের উত্ত্যক্ত করে। এর আগে রুবেল ওই শিক্ষার্থীর ওড়না কেড়ে নিয়ে যায় বলে তার সহপাঠিরা জানায়। এই ঘটনা নিয়ে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন শেখ শুক্রবার বিকেলে তার বাড়ির উঠানে সালিশ বৈঠকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দিলে লোকজন শান্ত হয়। পরের দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম, বেলাল হোসেনসহ এলাকার দু’শতাধিক লোকজনের উপস্থিতিতে আমজাদ হোসেন শেখ সালিশ বৈঠক করে। বৈঠকে বখাটে রুবেলকে ২/৪ চর-থাপ্পড় মেরে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠে গ্রামবাসী। গ্রামের লোকজন আবারো রুবেলকে আটক করলে রুবেলের বাবা আনিছুর রহমান, চাচা এনামুল হক, আজাহার উদ্দিনসহ লোকজন তাদের মারপিট করে রুবেলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, সালিশে মীমাংসার নামে যা করা হয়েছে তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। রুবেলকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।